বড়ো মনে পড়ে মা তোকে

শেষ রাতে যখন কুয়াশাচ্ছন্ন চারিদিক

ভোরের হিমেল হাওয়া যখন কাঁপন ধরায়

চাদর দিয়ে ঢেকে দেবে মা- এই ভাবনায় তন্দ্রাচ্ছন্ন

কাঁপনে যখন হারাই দিশা

অলস আমি হাতরাই চাদরের খোঁজে

মনে পড়ে যায়- মা তুই নেই কাছে

এই অভাগা তোকে ছেড়ে বহুদূর

বড়ো মনে পড়ে মা তোকে……

সারাদিনের ব্যস্ততার পর যখন ঘরে ফিরি

এলোমেলো আমি শুয়ে পড়ি ওভাবেই

এক পশলা ঘুমের পর দেখি বিবর্ণ চারিদিক

আরো আগোছালো করি অস্থিরতায়

মনে হয় ডুকরে কাঁদি-

জীবন এখানে বড় শুকনো মা

তোর একটুখানি বকুনির অভাবে

মনের নদী শুকিয়ে নালার মতই সংকীর্ণ

বড়ো মনে পড়ে মা তোকে……

জানি তুই এখনো ঘুমাসনি

বালিশ ধরে চুপটি কাঁদিস

আমার পছন্দের তরকারীটা এখনো নামে না তোর গলা দিয়ে

ফেলে আসা কাপড়্গুলোয় আমার ছোঁয়া খুঁজে বেড়াস

ভাবিস- পাগল ছেলে, নিজের হাতে খেতেও চাইতো না

কোথায় আছে আর কেমন আছে।

এখন আমি নিজের হাতেই খেতে পারি মা

কাপড়ও ধুই নিজের নিজের হাতেই

শুধু তোকে দেখিয়ে বলতে পারি না-

দেখ মা, তোর ছেলে বড় হয়ে গেছে

তোদের ফেলে এই দূরদেশে একলাই যুদ্ধ করি ইস্পাতকঠিন পৃথিবীর সাথে

তোর জন্য একরাশ খুশির কান্না যেদিন জমাতে পারবো

আসবো সেদিন ফিরে

তোর কোলে মাথা রেখে অন্যকোন ভুবনের রেখা টানবো মনে মনে

তোর হাতে না খেলে কি খিদে মেটে, বল?

একি, কাঁদছিস তুই?

কাঁদিস নে মা- কি করি বল

বড়ো মনে পড়ে যে মা তোকে…… ।।

Advertisements
Posted in Uncategorized | Leave a comment

আমার সূর্যরাশি

মাঝে মাঝে যখন নিশ্চুপ চারিদিক

মনের জানালা চুইয়ে একফালী সোনালী রোদে

হেসে ওঠে আমার আঙিনা- চমক ভাঙলে

তোদের একঝলক আমায় কাঁদায় অঝোরে…

সেই যে তোদের ধরে ক’ড়ের পরে

কত যে হেটেছি পথের পর-

একফোটা হাসিতে কত ভুবন রাঙালি

ভোলালি দুঃখসবি- ভাসালি কত অবিরত প্লাবনে

এখানে প্লাবন নেই… কষ্টরা নর্দমার মত জমে যায়

বিষন্নতার মেঘ আর সরে না-

কবে হায় যাবো ফিরে আবার

দেখবো আমায় ঘিরে সূর্যের মেলা

 মনের কালিমা যাবে মুছে চিরতরে

অপেক্ষার কাটা বুকে বাজে বড়

খুব বেশি একলা আমি তোদের ছেড়ে

বড় কষ্ট তাই খাঁ খাঁ এ বুকে

আমি ভালো নেই-

একদম ভালো নেইরে মায়েরা আমার…

Posted in Uncategorized | Leave a comment

অপাঙ্…ক্তেয়

বহুবার ভেবেছি হাটবো

চেনা অচেনায়, দূরে বহুদুরে

দেখবো কাশফুলের গায়ে সূর্যাস্তের আভা

নিস্তরঙ্গ ঢেউয়ে পা ডুবিয়ে

অনন্ত নক্ষত্রের সাথে চুপি কথা

বলা হয়নি তাই

শব্দগুলো কথা কয় আমার সাথে

ওদের মুখরতা আমায় নির্বাক করে দেয়……

 

বহুবার ভেবেছি গাইবো

মনের গহীনে যা আমি বুনে গেছি-

ঐ আকাশের প্রদীপ নিভিয়ে

ঊন্মীলিত চোখে গাইবো প্রিয়ার অপেক্ষার মতো

গাওয়া হয়নি তাই

কৃত্রিম আমি, সুর ফেলেছি হারিয়ে

সুরহীন শব্দগুলো ব্যথার মতো বাজে

ওদের কান্না আমায় স্তব্ধ করে দেয়……

 

শতবার ভেবেছি লিখবো

পাতাভরা কলঙ্কে বুনে দেবো

আমার সব সুর, কথা, ছবি

ওগুলো যে আমারই টুকরো

একটু করে জুড়লেই আমি

লেখা হয়নি তাই

টুকরোগুলো উড়ছে হাওয়ায়

ওদের অভাব আমায় অসম্পুর্ণ করে দেয়……

Posted in Uncategorized | Leave a comment

অর্বাচীন স্বপ্ন

দুলছে পৃথিবী ঘূর্ণায়মান চাকার সাথে

প্রতি ঘূর্ণণে দূর হচ্ছে দূরতর

চিনচিনে ব্যাথাটা গলার কাছে নেই আর

ক্রমেই নিম্নবর্তী- ছড়িয়ে যাচ্ছে বুকের বা’পাশটায়

বাস্পরূপী হয়ে মেঘ ধারণ করছে- অঝোরে ঝরবে বলে…

ওপাশে তখন অবিরত বর্ষনে প্লাবন এসে গেছে

কিনার ছাপিয়ে দু’কুল মাড়িয়ে গ্রাস করছে সবুজ

ভূমিধ্বসে বিলীনপ্রায় উপকূল

খরস্রোতা তরঙ্গে ভাসছে প্রাণের চিহ্ন…

এপাশেও তখন ধারার বর্ষণ

মরুর মাঝে নিতান্তই অপ্রতুলসম

জীবনের মাঝে নেই জীবনের চিহ্নমাত্রও- শুধু যেন লাশের আনাগোনা

কোন অদৃশ্যটানে তাদের প্রাণহীন অবাধ বিচরণ আর অবাক ব্যস্ততা।

 

জীবন এখন অর্থহীন দু’পাশেই- নানা রঙে রাঙানোর স্বপ্নে

সাদামাটা খালি ক্যানভাস মাত্র।

Posted in Uncategorized | Leave a comment

অতশী ও অন্ধ

সময় যেনো থমকে গেছে

এক এক মূহুর্ত যেনো এক এক শতাব্দী

অবাক বিমূর্ত বিস্ময়ে ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে রই

যেনো অন্য কোন ছায়াপথের ধূসর মায়া

আমি প্রাণের উল্লাস অনুভব করি রক্তের আনাচে-কানাচে

তীব্র বাসনায় আলতো ছুঁয়ে দিই তাকে

তারপর ভুলে গেছি কতকাল, কতশত সহস্রাব্দ ধরে

ছেড়ে গেছি প্রিয়জন আর লোকালয়

তাকে আগলে রেখেছি মানবচক্ষুর অন্তরালে

বেদীতে দিয়েছি কতনা মুক্তোর্ঘ।

মহাকালের বাঁশিতে প্রণয়ের সুর আজ এই বাজলো বলে

শীর্ণ হাতে আজো জড়িয়ে তাকে

স্মৃতিপটের আঁকা অবয়বের প্রতিটি রেখা কথা বলে

আমার অঙ্গুরীতলে

মৌনতা যে অবধারিত মৃত্যু…

বিরহের কালিমায় যে সাজে তার দন্ডমাত্র।।  

Posted in Uncategorized | Leave a comment