ধূসর সময়

এখন খরার সময়,
পিচগলা ঝাঁঝে পৃথিবী ধূসর-
ফাটা জমিনের চেরা বুক;
ওপাড় খোঁজে অজস্র চোখ।
ক্লান্ত শরীরগুলো টলে আসে,
আশার চেরাগ নিভু নিভু;
বাষ্পরুদ্ধ করুণ বিলাপ শুধু ভাসে-
শ্মশানে চলে অখণ্ড হরিতউৎসব।
এবেলা গ্রহণের কাল,
মহাজাগতিক শূণ্যতার মেলায়
ধীর জমে যায় চরণমিছিল-
মায়ার ছায়া ক্রমেই মিলায়ে আসে।।

Whispers

Here I am,
Where the green turned into pale-
I walk by them touching bare naked.
They tell me their stories-
A dream that they lived once.
I look into them;
Bearing crystal smile to keep the pain unfolded,
They wait for the bolt silently.
I whisper into their heart
Here I will be-
Together with you,
We will live the dream again.
Lets not cry nor shatter
Just saying good bye holding each other-
For a new green morning.

ভালোবাসি বলেই হে মানবী

ভালোবাসি বলেই হে মানবী
তোমার ওষ্ঠে এঁকেছি শিশিরস্নাত ভোর,
ভালোবাসি বলেই হে মানবী
পাত্রাধারে ধরে দিয়েছি হৃদয়খানি মোর।
ভালোবাসি বলেই হে মানবী
তরঙ্গ সকুল ফিরে আসি এই তটে,
ভালোবাসি বলেই হে মানবী
আজ অবেলায় মায়াহীন- সব নিয়েছ যে লুটে।
ভালোবাসি বলেই হে মানবী
শিখরছোয়া ঐ কর্দমাক্ত অভিমান,
ভালোবাসি বলেই হে মানবী
সব ভুলে দেখো- নতুন বাঁধি প্রাণ।
ভালোবাসি তাই হে মানবী
নতুন স্বপন দেখা- নতুন পূর্বাচল,
ভালোবাসি তাই হে মানবী
খুব আদরে আজ ছুঁয়ে দিই বিরহ অনল।
ভালোবাসি তাই
ফিরে আসা-
কষ্টে কষ্টে দূমড়ে মুচরেও বাঁচা,
বড় অশালীন প্রিয়, প্রেমময় এই সাজা।
ভালোবাসি বলেই ভালোবাসা হে মানবী,
বড় ভালোবেসে এই ভালোবাসা।।

শ্মশানের চাঁদ

এখন শুক্লা তিমির
প্রহর ভাসে মায়ার্ত ছায়ায়
পথে পথ হেটে যায়
যুগলবন্দীর পা-
কাঁপা প্রতিচ্ছবি দেখে
ত্রয়োদশী ঘাটের সিঁড়িতে;
ছাঁদের রেলিংয়ে আলো গলে
নববধূর পা ধুইয়ে যায়।
এলো কিশোর তখন ময়দানে
কি এক অবাক টানে চলে এলো!
আর-
বুনো দূর্বায় অস্ফুটেই পড়ে থাকে
শ্মশানবাসী করম খাঁ।
এক জনম গত
ঘর থেকেও চিরায়ত বাউল-
অবারিত চান্নি পসরে মেতেছে।
হেঁটেছে গ্রামান্তর
শহর-বন্দর-মাঠ;
কখনো যুগলে কখনো একেলা-
অজস্র জ্যোৎস্নাগহনে
সুরের সাজে এফোঁড়-ওফোঁড়
বুনেছে শত মায়াকাব্য।
সেইবার যখন হাঁপানির টান এলো
তাতেও সে উঠোনে,
লাশ জোছনায় ধুলো আগে
তাঁর শেষ ইচ্ছেমাফিক।
শ্মশানের চাঁদ আর করম খাঁ
বিগত হওয়া এক দূর্বার প্রেম-
এখনো শুক্লা আসে
শ্মশানেও জ্যোৎস্না ভাসে;
শুধু অনুভূতিতে নেই অনুভবেরা।
অন্ধত্বের গারদে বাস করুক করম খাঁ-
আর একবুক অপারগতায় হেসে যাক শ্মশানের চাঁদ।

বর্ষাযুগল

বিগত বর্ষায় ছিল চুপটি রোদন
মায়াময় সিক্ততায় নেমেছিল প্রগাঢ় সন্ধ্যা-
ঝটিকা বলয়ে আকস্মিক মেজাজি গর্জন
ক্ষণিকের অস্ফুট গুঞ্জনে ছিল মরমরে বেদন,
তবু উল্লাসে হেনেছিল মাতামাতি
এক ছটায় কালোমেঘ, আচম্বিতেই রংধনু!
এ বেলা শুনি আকাশের তাণ্ডবময় হাহাকার
উলটে-পালটে একাকার করে আসা উত্তাল পাগলামি,
বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে আজ ক্রমাগত উচাটন বেলাভর
নির্জলা অভিমান গড়িয়ে যায় শ্রাবণজূড়ে,
সর্বহারার মালা গলায় নিয়ে উদাসী দৃষ্টি বিলাই-
তবু ছুঁলেই সে গলে যায়, ধুয়ে যায়, মুছে যায়!
মায়া যে সর্বনাশী-
তাইতো রোদন ভুলে, রংধনু তুলে
বৈরাগের হাসি হাসি।

আঁধারকাব্য

গল্পের শুরুটা এরকম ছিল না।
চির অবাধ্য-দুর্বিনীত আজন্ম বিপ্লবী
উল্লাসী দমকে বেমালুম ভেজা স্বর-
দিগ্বিদিক রঙের বেখেয়ালী প্লাবনে
ছিল ছুটন্ত ফড়িঙয়ের ডানায় ভর।
কাজলী ছায়ায় বিষন্ন মায়ার সুর
বাঁশরীর মোহে ছিল শিকলের ডাক,
তবুও কেন অস্ফুটে নুয়ে গেলো-
উন্মাতাল পথের পাগল নাবিক।
মোড়ে মোড়ে যার বিজয় বিরাগ
সে আজ ভিখারীর বসনে সাঙ্গিক।
প্রণয়ের তোড়ে চেঙ্গিস খানও পর্যদুস্ত।
গল্পটা এরকম নাও হতে পারতো-
কালিতে কালিতে প্রগাঢ় মায়ায়
এক চিলতে সন্ধ্যা, মহাকাল হয়তো বুনতো।
বাক্সবন্দী রঙ্গিন খাম, ফুলেল মালা
হয়ে যেতো অম্লান স্মৃতির কোটর।
দীর্ঘশ্বাসী বোবা যে জড় বুক-
হতো অবাক প্রেমের সংলাপে মুখর।
এখন, ঝি ঝি পোকার পাকা নিবাস
কুহকী আলোর শঙ্খে আঁধারের ঘনবাস।

তাসের ঘর

এসেছিল অযাচিত মাতাল ফাগুন
কৃষ্ণচূড়ায় কাল আগুন রেঙেছিল!
হাতের কমলে চুমকী মোতির বালা,
খোপার মালায় ইন্দ্রজাল বুনেছিল।
ট্রয়ের পাঁজরের অনাদৃত কুহক-
ভ্রূকূটিতেই তাসের ঘর ভেঙ্গেছিল।