Category: Uncategorized

The Argument

They say, you have gone crazy,
Little they know- I have come to senses now.
They say, what will happen with you in life?
I wish they knew I have never felt more alive.
They say, it’s never possible to unite.
I say, it’s not possible to separate- let alone uniting.
They say, can’t you forget for a while?
How someone be forgotten when you don’t have to remember?
They say, you are going to ruin yourself.
I wish they were to see my re-birth on every splitting moment.
They say, May God show mercy on you.
I wonder, how would they realize I am showered with His mercy-
What is love but a blessing of one true self??

বিদায়, ভালোবাসা

যায় যাক ভালোবাসা আজ
দৌড়ে যাক স্রোতস্বিনী তটিনীর ওপারে,
ভেসে যাক কুলে কুলে যতদূর খুশি
নিয়ে যাক সাথে সলিল গল্পগাঁথা,
বন্দরে বন্দরে রঙ্গিন আলোর নেশা
নবীনতার চাদরে মোড়া উদ্যাম আকর্ষণ,
চলেই যাক তবে-
বিদায়ী ঊর্মির পানে মূষ্ঠি মূষ্ঠি অভিমান ছুঁড়েছি
পল্লবপত্র ভাসিয়েছি অজস্রধারায় – পৌঁছে যদি!
কতশত ভুলেভরা আর ভুলধরা বাতুলতা,
অভিযোগ-অনুনয় আর অবুঝ পাগলামির চুড়ান্ত!
নিভৃত ঘরে একলা নাবিক, ক্লান্ত চোখ
নির্মিলেষ চেয়ে দেখি দেয়ালিকা ঘরজোড়া
ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ছিল ভালবাসার শ্বাসকষ্টের ছাপ-
আজ অবেলায় বলে কি লাভ?
চলেই গেলে যখন নিঃশব্দে – আর শুনেই বা কি হবে?
দিনশেষে আমি আঁধার নিবাসী আর আঁধারই ভালোবাসি-
আঁধারপ্রেমী কারো সাথে হয়তো আবারো কখনো প্রেম হবে।
আবারো কোন গল্প হবে। হয়তো কবিতা হবে।
অথবা মৌনতার আদরে মাখামাখি হবে।
আমার অনুভব যে আরাধনার, সাধনার নয়।
জীর্ণ ললাটের ছেড়ে যাওয়া ভালোবাসা তো অনুকম্পা বৈ নয়-
এ চির অবাঞ্ছনার।
চলে যাও তুমি ম্লানভূমি ছেড়ে চিরতরে,
পেছন মুড়ে দেখো না ক্ষণিকের তরে চকিতেও
ভালোবাসা তুমি আজ আসতে পারো-
তোমায় বিদায়।

প্রেম-সম্পর্ক, বাস্তবতা-কল্পনা

অনেকদিন ধরেই জমছে কথাগুলো। আগেও বলেছি আমি নির্বাক টাইপের মানুষ। একেবারে জমে বস্তাপচা না হয়ে গেলে সাধারণতঃ মুখ খুলি না। আমাদের সমাজটা যে মেকিতে ভরে যাচ্ছে, তা আর না বলে পারছি না। লেখক-সাহিত্যিক আর গায়কেরা আগে আমাদের ভালোবাসার তীব্রতা বুঝিয়েছেন রোমান্টিকতায় এবং গভীর থেকে আরো গভীরে যেতে বলেছেন এ খেলার। এরপর আসলো রঙিন পর্দার যুগ। এখনতো এটার সংজ্ঞা ক্রমশঃ আত্মিক থেকে শারিরীক এবং বর্তমানে কালক্ষেপনের বস্তুমাত্রে দাঁড়িয়েছে। ভালবাসাকে রোমান্টিক করতে করতে এখন তারা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যেখানে বিনোদন ই হচ্ছে সম্পর্কের মূলবস্তু। যতক্ষন বিনোদন দিতে পারো, উচিত-অনুচিত বাদ দিয়ে কেবল ভালোবাসার পূজা করতে পারো- তবেই তুমি প্রেমিক। বস্তুতঃ ভালোবাসার পর্যায়ে এটা আর নেই- ঐশ্বরিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তারা।

আমরা ম্যাঙ্গো পিপল। আমাদের মধ্যে দোষ-ত্রুটি আছে। থাকবেই। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে আমরা কমাতে চেষ্টা করবো- এটাই মনুষ্যত্বের দাবী। আমরা আমাদের ভুল শোধরাবো, ভালো মানুষ হবার চেষ্টা করবো- সেটা চাওয়াটা বিবেকের পরিপন্থী কি? হালের বাতাসে চলে, ‘আমি যেরকম আমাকে সেভাবেই মেনে নাও। আমাকে বদলিও না।‘ পরিস্থিতি মেনে নিয়ে আমাদের চলতে হয় মানি। কিন্তু মনুষ্যত্বের আঙ্গিকে আমাদের এতটুকু বোধ ত থাকা উচিত যে কেউ কোন কথা বললে তা অন্ততঃ শুনব, বোঝার চেষ্টা করবো এবং যদি বেঠিক হয় তখন হয়তো এর বিপক্ষে দাঁড়াবো। কিন্তু কোন কথা বলাই যাবে না কেননা তুমি আমাকে বদলানোর চেষ্টা করছো, আমার আমিত্বে আঘাত হানছো- এটা কেমন কথা? তাহলে আমাদের সবচে’ বড় শত্রু আমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন আর শিক্ষকরা হবেন।  

আমাদের আমিত্বে সবচে’ বড় আঘাতদানকারী সত্ত্বা হচ্ছেন আমাদের মা। আমাদের খাওয়া-ঘুম থেকে কাপড় পড়া, লেখা-পড়া করছি কিনা, খেলা-ধূলা বেশি করলাম কেন- সবকিছুতে মায়ের বাড়াবাড়ি। কিন্তু এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে- কেউ যদি আমাদের সবচে’ বেশি ভালোবেসে থাকেন, তিনি মা নন? সব মায়ের সব চাওয়া ঠিক না, সব শেখানোও না- কিন্তু তাদের ভালবাসায় খাদ নেই। যদি ভুল করেও থাকেন, তা ভুল করেই- জানেন না বা বোঝেন না বলেই। জ্ঞানতঃ কোন মা তার সন্তানকে ভুল শেখান না, কষ্ট দেন না। আর যদি কেউ দিয়ে থাকে তবে সে মা সুস্থ নন- অসুস্থ বলেই এ রকম করতে পারেন। যা হোক, সেই মা যখন আমাদের কোন আদলে গড়েন, তা আমাদের ভালোর জন্যই। এক্ষেত্রে কেউ প্রশ্ন করবে না। কিন্তু ভালোবাসা নামক যে বস্তুটার আজকে চল, সেখানে কারো ভুল ধরানো যায় না- ভালো কোন পরামর্শ দেয়া যায় না- কোন কিছু আলোচনা পর্যন্ত করা যায় না। কেন? যদি আমাকে ভালোবেসেই থাকো- আমাকে আমার ভুলসহ গ্রহণ কর।‘ ওকে মেনে নিলাম। কিন্তু কিছু জিনিষ এমন থাকে যা উক্ত মানুষের নিজের জন্য ক্ষতিকর। উদাহরণঃ ধূমপান। এখন যদি প্রেমিকা বলে তুমি এটা ছাড়ো। সেটা কি খারাপ? নাহ, বরঞ্চ সবাই বোঝে যে মেয়েটা কেয়ারিং। হয়তো একটু বেশি নীতিবাগীশ- কিন্তু সততা মেনে চলতে বলছে যে, সে কি খারাপ? আমাদের মন যা চায়, তার বাইরে কেউ কিছু বললে আমরা আজকাল ফেলনা করে রাখি। ধূমপান হতে শুরু করে ন্যায়-নীতির অভাবে আমাদের সমাজ বা পরিবার কি মুক্তির দিকে যাচ্ছে না ধ্বংসের দিকে?

একটা সময় ছিল যখন স্বামী স্ত্রীকে না দিয়ে খেত না, স্ত্রী’র সাথে অন্যায়-অবিচার করত না, টর্চার করত না। আমি আমার বাবাকে দেখেছি সুস্থ অবস্থায় কখনো মাকে না নিয়ে খেতে বসতেন না। আমার নানাকে দেখেছি কেউ কিছু দিলে সেটা ঘরে এনে স্ত্রী’র সাথে আধাআধি করে খেতেন। মাকে দেখেছি শত ভুল সত্ত্বেও বাবাকে আগলে রেখেছেন। নানীকে দেখেছি নানাকে ছাড়া কোথাও যেতেন না। আমার নানা প্রায় শতবর্ষী ছিলেন। ওই বয়সে তিনি তার সন্তানদের চিনতে পারতেন না- তাদের পরিচয় দিতে হত। তিনি শুধুমাত্র নানীকে চিনতেন। আর ছেলেমেয়েদের চিনতে না পারায় নানী তাঁকে মৃদু বকাও দিতেন। আমার নানা নামায পড়েছেন কিনা, খেয়েছেন কিনা- কিছুই বুঝতেন না নিজে। ক্রমাগত নামায পড়তে থাকতেন বা খেয়ে উঠেও খেতে চাইতেন। তার বোধশক্তি ছিল না সেরকম। কিন্তু নানী যখন বললেন আপনি কত পড়েন নামায? বা এই না খেলেন? নানা বুঝতেন- তার খাওয়া হয়ে গিয়েছে বা নামায পড়া হয়ে গিয়েছে। নানী বলেছেন এর উপর আর কথা নেই। আর নানী কেমন ছিলেন? নানার মারা যাবার চল্লিশ দিন পর তাঁর চল্লিশা পর্যন্ত সুস্থ। চল্লিশা শেষ হবার পরপরই নানী কোমায় চলে গেলেন। সেখান থেকেই মৃত্যু। একটু তাদের পরিচয় দিই। আমার নানী ছিলেন জমিদারের মেয়ে আর নানা মৌলভী। দ্বীনদার আর সততা দেখে নানার কাছে মেয়ে দেন নানীর বাবা। আমার নানার ঘরে প্রাচূর্য ছিল না। নানী ঘরের কাজ একলাই করতেন। নানার স্বল্প আয়েই আমার মায়েরা পাঁচ ভাই-বোন মানুষ। নানা ছিলেন শিক্ষক। এই ঘরে পঞ্চাশেরও বেশি সময় ধরে তারা সংসার করেছেন। এবং তাদের জীবনের সায়াহ্ন আমি একটু আগেই বললাম। দেবদাস-পারু, ভীর-জারা আর রোমিও-জুলিয়েটের মত প্রেম তারা করেন নি। তাদের প্রেম ভর্তি রোমান্টিক বাক্যালাপ ছিল না। ছিল সততা-নিষ্ঠা-সম্মান আর ত্যাগ। একে অপরের ভালো করেছেন, ভালো চেয়েছেন- একে অপরের কথা শুনেছেন। নানা নানীকে শাসন ও করেছেন কখনো কখনো। নানী এ জন্য দুনিয়া-আসমান এক করে ফেলেন নি। বরং কথা যৌক্তিক হলে শুনেছেন। নানী যখন নানাকে বকেছেন সেখানে নানা শুনেছেন। কারণ, একে অপরের ভালোবাসা নিয়ে তাদের মনে কোন সন্দেহ ছিল না। তাদের মনে হয়নি, ও আমাকে আমার ত্রুটি দেখিয়ে ছোট করছে। বরঞ্চ মেনে নিয়েছে ভালোবাসে তাই তো বলেছে, খারাপ চেয়ে তো আর বলে নি। আর আমাদের কোন স্বামী স্ত্রীকে কিছু বললে বা স্ত্রী স্বামীকে কিছু বললে তেলে বেগুনে লেগে যায়। এর কারণ, বিশ্বাসের অভাব আছে মূলে। স্ত্রী যদি জানত স্বামী ভালো চেয়ে কিছু বলেছেন- তাহলে মেনে নিত। এই নূন্যতম বিশ্বাসটুকুই তো নাই। আর দ্বিতীয়তঃ মানার যোগ্যতা নাই। কারো কথা শুনতেই ইচ্ছা করে না। রোগের ওষুধ নেয়া তো পরের কথা- মানুষ রোগের অস্তিত্ব অস্বীকার করে বসে আছে। যেন এতে করে ক্ষতি কম হবে! এটা আর যাই হোক সুফল বইবে না।

আমাদের কাছে আজকাল সবচে’ ভালো সম্পর্ক হলো বন্ধু-বান্ধবী বা প্রেমিক-প্রেমিকা। দুটোর মূল কাজই হচ্ছে বিনোদন। সবাই মিলে ই মজা করি আমরা। আবেগিক সাহচর্যের মাঝেও ক’জন আছে বন্ধুর ভুলটা শুধরে দেয় যাতে সে ভবিষ্যতে না ভোগে? বরঞ্চ কেউ নীতিকথা বললে আমরা তাদের গ্রুপ থেকে সরিয়ে দিই আর না সরালেও তার কথা অগ্রাহ্য করে রাখি। তাকে নিয়ে হাসাহাসি করি বা পুরো খেলোভাবেই নিই সে যা বলে। আমি বিনোদনের বিপক্ষে নই। কিন্তু শুধুমাত্র বিনোদনভিত্তিক সম্পর্কের বিপক্ষে। প্রত্যেকটা সম্পর্কের কিছু দাবী আছে-চাওয়া আছে-প্রত্যাশা আছে, এটা সবাই মানে। কিন্তু এর বাইরেও প্রত্যেকটা সম্পর্কের আরো কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য থাকে। এখানেই সবার সমস্যা- কেউ শুনতে রাজি না কোন উচিত-অনুচিতের কথা। আমরা যখন অভাবে থাকি, অভাব কাটানর চেষ্টা করি কি না? এটা নিয়ে আলোচনা করি কিনা? এগুলো যদি সম্পর্কের ক্ষতি না করে তবে মন্যুষত্বের আলোচনায় বাঁধা আসে কেন? আসল কারণ তো হচ্ছে এটা- আমরা নিজেদের যথেষ্ট ভালো মনে করি এবং কেউ কিছু বলতে যাওয়ার আগেই লেগে যাই কেননা এতে আমাদের আঁতে ঘা লাগে।

নিজেদের ক্ষেত্রে আমরা যতটা উদাসীন, অন্যের ব্যাপারে ঠিক ততটাই কড়া। বাবা-মা যদি তাঁদের দায়িত্বে অবহেলা করে থাকেন তাঁদের দুষতে আমাদের বাজে না। কিন্তু নিজেরা কতটুকু কি করেছি? আমরা সবাই যার যার দায়িত্বে অবহেলা করি দেখেই স্বামী আদর্শ নয়, স্ত্রী আদর্শ নয়, না বাবা-মা আদর্শ। সবাই যদি সাময়িক আনন্দের মোহ কাটিয়ে নিজের দায়িত্ব পুরা করি তাহলেই সব ঠিক হয়ে যায়। সম্পর্ক তখন আর খেলো হয় না। বাস্তব বাদ বিয়ে কল্পলোকের মোহে গড়া মিথ্যে দুনিয়া গড়ে বসে আছি সবাই। আর সবচে’ বড় দুঃখতো এটা, আমরা এটা মেনে নিয়েছি এবং কেউ এটার বিরুদ্ধে কিছু বললে তাদের চুপ করিয়ে দিই বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে। আল্লাহ আমাকে সহ সবাইকে বোধ দিন। অলীক ফেলে বাস্তব গ্রহন করার শক্তি দিন। 

murmuring words

When our eyes burn in the smoke of reality, dreams shatter apart. When
we cry out in agony and pain inside, the words lose its’ meaning. When hatred and ignorance are highly appreciated, love loses its value in the heart of lover. He might not stop loving but it dries up as the burning rays of a shut heart vaporizes the sweetness. Ask a dead field, it could tell you the pain of drought. The rain can splash away its hardness and make it softer unless it has turned into a desert which can bear nothing. Its no wonder that cactus holds such a motionless toxic water in a desert. But yet it is also no wonder that the sandy-sea might get us a well of life as well.

Sometimes situations are destined but yet some are created.. We might not have a handle to control the past but we do have a rein to administrate the path leading future. It is us who lead ourselves to the destination. The fault does not lie on the path or the obstacle or to the destination itself, there will always be hardship. But if we want to escape from the it, easier way is – ignoring the reality and staying in the dream land till our eyes go blank. But if we want to fight the sorrow with a softer heart and yet firm determination, we all have to stay in conscious pain and motion. This will definitely hurt but we will find peace in our heart as the great war is going on within and we choose neither to disarm nor to surrender to our limitations and fear.

I have always dreamed as I choose to dream and suffer in the pain of reality yet keep walking as I feel it burning inside till then when I can walk no more, when I can breathe no more.

sher

1. 

kuchh sapne apne the
kuchh lamhe karib the-
kuchh darr tha ankaheen
aab saab achanak bikharne lage,

dur melo tak na koi chhao hein 
na koi chara dikhte hein,
dhul gayi meri aankhon mein- 
aab toh aankh hi na lagne lage!

 

2.

 kiyu kisise itna pyar hota hain jiya dhadak ne se dard deta hain, 

khabon ki asman jo kabhi na tuta

chahat ki silsila jo kabhi na ruka-

aab saare bikhra sa kiyu lagta hain

sishey ki tarha dil tuta sa kiyu lagda hain,

kiyu kisise itna pyar hota hain

jiya dhadak ne se dard kiyu deta hain…

 

আর্তি

কাঁপা হাতে তাকিয়ে দেখি গুমোট কালো শব্দগুলো জমাট অসহায়

নির্বাক ব্যক্ততার শেকল ওদের পায়ে

কম্পমান অভিব্যক্তি বলে দেয় অথর্ব ভালোবাসার থৈ

কান পাতলে শুনতে পাবে নিঃস্বতার আয়োজন,

মুক আবেগে স্থূলতা অর্বাচীন কিছু ত নয়-

একাকীত্বের পরশপাথরে দেখো খাদহীন সোনা কিভাবে ভেঙ্গে-চুরে যায়;

ছায়াময় প্রাণে আবেশ কি থাকে বলো?

কালের বিবর্তে যে হ্রদ শুকায়, জলের রেখা কি মিলায়?

লেখনী চিরে দেখো কখনো- কলঙ্কের নীলিমা থেকেই যায়-

ওলট-পালট আমি আয়নায় দেখি কাঁচাপাকা বার্ধক্যে সুপাঠ্য জীবনী

কুহকের মায়া এ জীবনে ছাড়া আর হলো না,

সর্বনাশের অসম্ভব টানে উজানে ভেসে আসি যদি কখনো

দেখো হাতে শেষ চিরকুটটা তোমাতেই লেখা,

এলো পংক্তির অলীক মায়াটাও তোমারি জন্য-

যতন করে পুড়িয়ো সেটা

কিছু ক্ষণ রাখার নয়, কিছু স্মৃতি যে মোছবারই জন্য।।

পুরুষ নির্যাতনের নমুনা

সারাজীবন নারীবিদ্বেষ আর নারী নির্যাতনের কথা শুনেই গেলাম। আমি কখনোই এর পক্ষে বলবো না। কিন্তু যেটা বলতে চাইছি আজ সেটা হলো পুরুষরাও trauma দিয়ে যায়। আমি মানি ন্যাচারালি  পুরুষরা রুক্ষ টাইপ এবং চাছাছোলা। এরা কখনো নরম করে কিছু চাইতে জানে না। Bossy ভাবটা বেশি। যার কারণে আজকালকার মেয়েরা এ টাইপের ছেলে পছন্দ করে না। এটাকে ঠিকও আমি বলবো না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন থেকে মেয়েরা Bossy পোলাপান অপছন্দ করা শুরু করেছে- ironically তারা নিজেরা তা করা শুরু করেছে। শুধু তাই না- এটা এখন নাকি তেমন সমস্যাও না। ‘উনি শুধুমাত্র একটু bossy এই যা। কিন্তু মানুষ খারাপ না।’ অথচ এই দোষটার কারণেই পুরুষ সর্বজায়গায় দোষী- কর্তৃত্বপরায়ন, স্বৈরাচারি ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

আর বাস্তবতা হলো নারীরাই সংসার চালান। কর্তৃত্বও উনাদের। বাসার জামাই, বাচ্চা-কাচ্চা সবাইকে তাদের মা বা বউয়ের কথা শুনেই চলা লাগে। পুরুষ মানুষের চল নাই বাসায়। বিশ্বাস না হলে যে randomly যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন। যতবড় বুজুর্গ হোক বা নেতা, বাসায় বৌ এর কাছে তার কোন কদর নাই। এটা চাওয়াও হাস্যকর। কিন্তু ঘটনাটা তুলেছি অন্য কারণে। কোন স্বামী স্ত্রী’র প্রশংসা না করলে খারাপ। আমি মানি। কিন্তু ক’জন স্ত্রী স্বামীর প্রশংসা করেন? স্বামী কি সংসারের জন্য করেন না? মা-বাবা, ভাই-বোন, বৌ, শ্বশুরালয় নিয়ে চলেন না? একজন বাবা হিসেবে সন্তানের যত্ন করেন না? আমি এরকম স্বামী অনেক দেখেছি যারা স্ত্রীকে রান্না করে খাওয়ান, ঘরের কাজ করেন এবং বাইরেরও ঠিক যেমন অন্য অনেক কর্মজীবি মহিলার করেন। Literally. অথচ সমাজে- টিভিতে- ফেসবুকে-পত্রিকায় খুললে এসব কখনো শুনেছেন কি? শুধু নারী নির্যাতন আর পুরুষবিদ্বেষের ছড়াছড়ি। যেন এই প্রজাতিটার জন্মই হয়েছে শুধু নারীজাতিকে শোষন করার জন্য। C’mon… grow up! পুরুষের যেমন ভালো-খারাপ আছে, মেয়েদেরও আছে। পুরুষদের পচিয়ে যেসব নট্যরঙ্গের অবতারণা করা হয় তার প্রতিবাদে বলছি- আজকে নারীদের নিজেদের মধ্যে সহাবস্থান হয়ে যাক, কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগেরো বেশি শ্বশুরালয়ের নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে। এটা নারীদের কর্তৃত্বের লড়াই থাকে নিজেদের মধ্যে। অনেকটা হাসিনা-খালেদা’র মত।

 

একজন পুরুষ জন্ম থেকেই pro active টাইপের হয়। ক্রোমোজম Y এর বদৌলতেই কিনা জানি না দৌড়-ঝাপ বেশি ছোটবেলা থেকেই। ছেলেবেলা থেকেই মায়েরা বাচ্চাদের শক্ত করে গড়ে তোলেন। ধরুন বাচ্চাছেলে পড়ে পা ছিলে ফেলেছে। মা বলবেন, আরে বোকা ছেলে আমার! কাঁদে নাকি? ছেলেদের কাঁদতে নেই। ছেলে চোখ মোছে। বড় হতে থাকে আর ভাবে- ছোটবেলায় কি বোকাই না ছিলাম! এখন পা ছিড়ে গেলেও অপারেশনের পর দেখা যায় চোখ মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কিন্তু কান্না নেই। সে কাঁদলে মা যে আরো ভেঙ্গে পড়বে। আমার ভাইয়ের জ্বর হলে আমরা ততক্ষন জানতাম না যতক্ষনে সে রক্তবমি শুরু না করেছে। সে সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। যদি অটোমেটিক্যালি চোখ দিয়ে পানি পড়ে তো পড়লো, সজ্ঞানে তিনি কাঁদবেন না! তাই বলে কি উনার ব্যাথা কম লাগে? বড় আপুর সংসারের বিতিকিচ্ছিরি সমস্যা ছিল, সবাই কাঁদছে- ভাইয়া বালিশে মুখ গুঁজে আছেন। কিছু না বলে চুপচাপ উঠে চলে গেলেন। উনার চোখ ভেজা- রক্তিম। কান্না দমানোর প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তার।

 

একজন সাধারণ পুরুষকে আমি শুধু সহ্য করে যেতে দেখি। বাবা মারা যাওয়ায় তাড়াতাড়িই সংসারের দায় তার কাঁধে বর্তালো। ছোট ভাই-বোনদের পড়ালো। নিজে বিয়ে করতে করতে ৩০ ক্রস করে ফেলল। নিজের জন্য কিছুই জমানো নাই। বউ আসলো সংসারে। বউয়ের কথা- নিজেদের সন্তানের জন্য করতে হবে। কথা ঠিক। কিন্তু বুড়ো মা আর বিধবা বোন বা অথর্ব ভাইকে তো ফেলে দেয়া যায় না। ওদের জন্য করতে গেলে সঞ্চয় হয়ে ওঠে না। এ নিয়ে কথাবার্তা, অশান্তি। বউ শ্বাশুরীকে দেখতে পারে না, শ্বাশুরী পারে না বউকে দেখতে। বেচারা ছেলে- মায়ের দিকে তাকাবে না বউয়ের দিকে। বিশেষতঃ যখন দু’জনই মুখ ভার করে বসে থাকে। সম্পর্কের বেড়াজালে স্ত্রী’র মনেও আসে না, মায়ের মনেও আসে না- ছেলেটা কেমন আছে। এনারা শুধু বোঝেন আমার ভাল্লাগে না। (logic- anti logic কোন কিছুর বেইল তো নাই। instnict বা emotion যা বলে তাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ। তাই না?) ব্যাস! আর উনাদের এই কাটাকাটিতে ছেলের মনে যে কি রক্তক্ষরণ হয় তা না সমাজ কোনদিন দেখেছে, না দেখবে। দেখবে কি করে, আপন-রাই তো কখনো দেখলো না। এটার যে শারীরিক কোন দাগ নেই, প্রমান নেই! কোর্টে কাচারিতে তো মামলা টিকবে না প্রমান ছাড়া। পুরুষ মানুষ, জন্মের পর থেকে শুনে এসেছে কান্না লজ্জার। কাঁদতেও পারে না। কে বুঝবে তার কষ্ট? তার না ভাষা আছে, না আছে কাঁদার ক্ষমতা, নিজের কষ্টের কথা বলে সে অভ্যস্তও নয়। সে জানে শুধু জমিয়ে রাখতে। কোনসময় যখন আগ্নেয়গিরি ফাটে- লাভা বাহির হয়, তখন সবাই বলে, আহারে পাষণ্ড! করছস কি? বৌ যদি মায়ের পেটের বোন জড়িয়ে বাজে কথা বলে- মা জড়িয়ে বলে- ক’জন কতদিন শুনবে বলেন? কিন্তু তাই বলে গায়ে হাত! ‘বৌয়ের গায়ে হাত তুলতে পারলি?’ (হয়ে গেলো নারী নির্যাতন)

আমি বলি, আপনি মাইরি, মানুষ নাহ পশু? পুরুষই থেকে গেলেন। শোষন ছাড়া আর কিছু করলেন না জীবনে। আহারে অবলা নারী!

 

‘চুপ কর’ বললে বাক স্বাধীনতা যায় আর কেউ কেউতো এরপরো থামে না। কিন্তু যত যাই হোক, আপনি পুরুষ। আপনাকে সহ্য করতে হবে। হাত তুলবেন না, শাসাবেন না, bossy হবেন না, কিছু চাপাবেন না এবং সর্বোপরি কাঁদবেন না। আপনার অনুভূতি নামক যন্ত্রটি কাজ না করলে ভালো। আর যদি করে তবে ইমিডিয়েটলি সেটা সার্ভিসিং এ দিয়ে অকেজো করে নিয়ে আসুন। কারণ, আপনার হার্ডওয়ারের সাথে এটির এসেম্বলি না হলেই বেটার।

 

 

বিঃদ্রঃ নারী নির্যাতনের পক্ষে বলা হয় নাই। পুরুষ নির্যাতনের কিঞ্চিৎ নমুনা দিলাম। স্টকে আরো আছে। কিন্তু শরমের লিগা বাইর করতে মনে চায় না।