Category: Uncategorized

মায়াবতী

কখনো এলো হবি তুই,
ঝুল বারান্দায় একটু আসিস
জোছনার উতলা গানে দিগন্ত সয়লাব,
উপচে পড়া বন্যায় ভিজিয়ে দেবো সর্বাঙ্গ-
নিটোল হাতের ফাঁকে,
গলবে অবুঝ চাঁদের কণা!
কখনো দগ্ধ হবি তুই,
চিলেকোঠার বাইরে দাঁড়াস
শুক্লাবর্ষার মুক্তোগুলো ছুঁয়ে শুঁকিস,
যেমন শিশুর বুকে নরম ওম
তেমনি রেশম-
স্নিগ্ধ মায়ার রেশ জড়িয়ে দেবো।

তোর জন্য পাঁজর গেলে চিরঞ্জয়ী পিঞ্জর-
শব্দে শব্দে বুনেছি মহামুকের বয়ান,
তোর জন্য বাক্সভরা ঝিঁঝিঁ পোকার মহাকাশ
একগাদা বকুল সুবাস, শিশিতে ভরা;
মায়াবতী,
এইখানেই দ্যাখ- শুভ্র পায়রার নিয়ত বসত,
তোতে-আমাতে এক অনিরুদ্ধ জগত!

গল্পনেবে? (ছায়াকাব্য। অনুপ্রেরণা: হেলাল হাফিজ)

 

গল্প নেবে গল্প?
ওই বাগানে অস্তরাগের সদ্যফোটা সন্ধ্যাবেলীর গল্প নেবে?
অথবা এই ঝরা পাতায় মরমরিয়ে হরিতকালের গল্প?
কাল বিকেলে একলা বেলুন উড়ে উড়ে কোথায় এলো,
এক পশলা নির্জনতায় ক্লান্তপ্রিয়ার আচলখানি ভিজেই গেলো;
ওই মোড়েতে অভিমানী- খুব আবেগে জলের দামে দু:খ নিলো,
খুব অসহায় কচিখুকি পুতুলশোকে মূর্ছা গেলো- তুমি তাদের গল্প নেবে?
কাচা-পাকা ভুরুর মাঝে বক্রতালের চিন্তাকুলের বাজার বসে,
এই অবেলায় বৃদ্ধসিংহী হুংকার ছেড়ে আকুপাকু হিসেব কষে- নেবে গল্প?
কষ্টে কষ্টে তেজপাতা এই শুকনো প্রাণের গন্ধ নেবে?
সাগরকুলে মধ্যরাতে যুগলবন্দীর তেপান্তরের স্বপ্ন নেবে?
কলমহাতে বসে থাকা নির্বাক কবির জটলাগা সব ভাবনা নেবে?
নেবে নাকি বেয়োনেটের গল্পকথা- তার দুধারে নিহতপ্রায় মনুষ্যত্বের গল্প নেবে?
এই পৃথিবী গল্পগোলক
গল্প আসে, গল্প জ্বলে-
গল্পের শেষে নতুন গল্প,
কাসুন্দীর বাসী গল্প – খুব ঝাঁঝালো,
গল্পওয়ালার গল্প নেবে?
খুব আদরে, গল্পের ভাজে- গল্প বোনার গল্প আছে
গল্পের গল্প হবে-
নেবে নাকি, গল্পকার?

উতসর্গ : গল্পকার প্রিয়জন Ramiz Raza। তোমার লেখা শুদ্ধতা নেই চারপাশে। শুদ্ধতার প্রলেপে নিবিড় পরশে আহত প্রাণের আবেশ জিইয়ে রাখার জন্য ধন্যবাদ।

(স্মৃতি হতে নেয়া)

অনুশ্বাস

আবার আসবে চৈত্রের দুপুর
আবারো নাচবে তালে যুগ্ম নুপুর,
কফির কাপের কিছু উষ্ণতা
আনবেই জেনো সনির্বদ্ধ প্রিয়তা।

ভক্ত উপাখ্যান

হৃদয় লুটায়ে দেবীর ‘পরে-
জেনেছিনু আহা দেবী গড়া পাথরে,
শির ঝুকায়ে, কত কাতরায়ে মাগিনু বাসনা
দেবী অটল নিষ্প্রাণ তবু, বোঝে না যাচনা;
প্রতিমা বিসর্জন তো অদৃষ্ট- দেবী ভাবে
ভক্তের প্রেম মরিচীকা- সেতো গতই হবে,
কি এসে যায়?
সিথুর সাজায়ে প্রদীপ জ্বালায়ে কত অহর্নিশ
কত না নটে, আছরিয়ে তটে- জপেছি আশিষ;
শেষ অবেলায় কেবলি আহা রক্তসিদুর জোটে,
উপেক্ষার থালিতে ফাটা, অভাগা ভক্তের ললাটে।
ভুলেছে দেবী সহস্র উপাসনার আড়ালে
আরাধ্য প্রেম- জোটে না কপালে লাখ লুটালে!

অত:পর,
ভক্ত তখন মুক্ত, সিদ্ধ হলো যার
দেবীকন্ঠে উন্নাসীন, বর্ষে শুভকামনা তাঁর।

প্রশ্নবিদ্ধ

যাযাবরের ঘর বেধেছিল যে-
কেন আজ শৃংখলের মায়ায় কাঁদে?
মৃত্যু আলিংগনে জড়ায়ে যে বহে,
জীবন কেন অযথা তারই জালে ফাঁদে?

এলোকাব্য

এক.
তুই দেখেছিস কাকফাটা দিন,
তাপে ভাপে ওষ্ঠাগত প্রাণ-
কতটা জ্বলে ওই রোদ আসে?

তুই দেখেছিস খোদাই পাথর,
ভেজে এটেলের শুকনো দলা-
কতটা আচে কতটা ছাঁচে- এমন হল?

তুই দেখেছিস ঝালুড়ে হাসি,
ফ্রেমের ওপাশে ঠোঁটের ভাজ-
কতটা টেনে ত্রিভুজ বানায়?

তুই দেখেছিস বিবাগীর প্রস্থান,
হেলতে দুলতে অনায়াস গমন-
নির্লিপ্ত হতে কতটা পাষাণ লাগে?

দুই.
ওই যে বাস্প ভাজে লুকায়
একটু শীতল ঘষে যা-
ঝর্ণা বয়ে ভেজাবে তোকে।

খোদাই পাথর?
জল ছিটালে কাদা নরোম
পায়ের তলায় লুটোপুটি খাবে।

ঝালুড়ে হাসির দমকা আঁচ?
হাসিতে দৃষ্টি মেলা-
বিষন্নতার দোকান পাবি।

বিবাগী চলে যায়?
গেরুয়ার খোঁটে দুফোটা বেধে দিস
আজন্ম শিকল লেগে যাবে।

যবনিকা-
হৃদয় কাঁদে যখন হৃদয়ের লাগি
স্বর্গ কিবা লাগে- এই মর্ত্যই মাগি!

সাজঘর

এখনো অন্ধ চাতক দিবার প্রণয় খোঁজে,
এখনো একলা শুক- বিরহের দণ্ডে সাজে;
এখনো দগ্ধ দুপুর প্রিয়তীর অপেক্ষায়,
এখনো বিকেল ঠুনকো, বাদামের খোসায়।
এখনো একলা চাঁদে উড়ালপংক্তির মেলা,
এখনো নিয়তি ফাঁদে- আরশিঘরের খেলা।