Category: বিশ্বাস

স্বগতোক্তি ২

আমি বড় ক্লান্ত।

আমি আস্তিকতা- নাস্তিকতার ধোঁয়া দেখে ক্লান্ত। আমি জামায়াতের ইসলামপ্রীতি(!!) দেখে ক্লান্ত।
আমি ক্লান্ত বিরোধীদলের কেয়ারফ্রি হরতাল ডাকা দেখে; আর ‘একাজে কিছু জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি হবেই’ টাইপের অনুভূতিশুণ্য স্বার্থপরতা দেখে। আমি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চাল দেখে ক্লান্ত। রাজাকারের ফাঁসি নিয়ে নাটক দেখে আমি ক্লান্ত।

আমি ক্লান্ত মুক্তচিন্তার নামে ধর্মের অবমাননায় আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাহীনতায়। আমি ক্লান্ত কিছু বিবেকহীন কার্টুনিস্ট বা ব্লগারের আমাদের নবীকে নিয়ে নোংরামি করার স্পর্ধিত কর্মকান্ডে। ইসলামের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মানুষ যখন উল্টা-পাল্টা গালি-গালাজ করে এবং অন্যেরা তার সাপোর্ট গায় সেটা দেখেও আমি ক্লান্ত।

আমি ক্লান্ত মিডিয়ার একপাক্ষিক বাক-স্বাধীনতা চাওয়ার পরিহাস দেখে।

আমি ক্লান্ত যখন আমার লেখা কারো পক্ষেরই নয় বলে ডিলিট করে দেয়া হয়।

পৃথিবীজোড়া বৈষম্য দেখে আমি আজ পরিশ্রান্ত। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মুখ বুজে থাকায় আর তাদের দূর্বল বলে সবার উপেক্ষায় আমি ক্লান্ত। সাধারণ পুলিশের মৃত্যুতে আমি ক্লান্ত। আমি ক্লান্ত সাধারণ মুসলমানদের ভোগান্তিতে। রাজনীতির বা ধর্মের দোহাই দিয়ে হিন্দুনিধনে আমি ক্লান্ত।

সাম্প্রদায়িকতা লেলিয়ে দেয়া দেখে আমি ক্লান্ত।

অর্থ আর ক্ষমতার লোভ কতটা হলে সাধারণ মানুষের জীবন-ধর্ম সমস্ত কিছু বিক্রি করে দেয়া যায়? কতক্ষন নিজস্বার্থ প্রাপ্তির আশায় আমরা সকল অন্যায় অন্ধের মত মেনে যাব? এখনো কি সময় আসেনি বোঝার? রাত পোহাতে আর কত বাকী?

আমার কথা (প্রভু সন্নিবেশ)

অংক ১

 

তখন আমি শিশু- ভাঙ্গনের আওয়াজ শুনি প্রথম

কোন এক বিস্তীর্ণ ভূকম্পে দেখি পৃথিবী টলায়মান

প্রচন্ড এক আতংকে আমি ডুকরে কাঁদি

বলে উঠি- মরণ ভালো এর চেয়ে।

আমার সেই কান্নাভেজা আকুতি শোনেন আমার প্রভু

ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচের পৃথিবী এক করে দেন তিনি…

সেই ফাটল আমি দেখে গেছি চিরদিন

আমার নিভৃতে কেঁদেছি রাতের পর রাত,

টুকরো পৃথিবী আঁকড়ে রাখতে দেখেছি প্রভুর রক্তাক্ত হাত,

আমার কান্নায় মিশে গেছে তাঁর হাহাকার-

তবু তাঁর মুখ দেখেছি আমি কষ্টের অনুভুতিহীন

দেখেছি ভুবনভোলানো হাসিতে পৃথিবীতে আলোর ফোয়ারা।

তারপর ভুলের পর ভুল করে কাঁদিয়েছি তাঁকেই

জানি আমার পৃথিবী অস্থির হবে না তিনি থাকতে

এক অপার নির্ভরতায় তাঁকেই অবহেলা করেছি

ভুলে গেছি প্রভুও ব্যাথিত হন আমার ঔদাসীন্যে।

কোন এক বিষন্ন সন্ধ্যায় দেখেছি তাঁর নিভৃত ক্রন্দন

ভেবেছ, একি করলাম! এর চেয়ে প্রস্থান ভালো।

 

 

অংক-২

 

কতকপর-

আমি আকাশ দেখি বিবর্ণ, সেখানে বিরহের সানাই বাজে

লজ্জিত আমি সংকীর্ণতার খোলসে জড়িয়ে কুঁকড়ে থাকি

প্রখর রোদ আর সবুজহীন প্রান্তরের এক কোণে-

আচমকা রক্তাক্ত প্লাবনের ঢল নামে পৃথিবীর বুকজোড়া

ভাসিয়ে যায় আমার প্রভুর চরণে

কম্পমান আমি অপেক্ষা করি তাঁর মৌনব্রত ভাঙ্গার

আমায় দেখে তিনি হুংকার করে ওঠেন

ভীত-অভিমানী আবার উঠি

এবার শাসন করেন তিনি- প্রভুর অধিকারে নত হই আমি।

প্রভু আমায় ঠাই দেন তাঁর অসীম অন্তরীক্ষে-

তাকিয়ে দেখি রক্তের প্লাবন বাহিরে নেই আর

এর উৎস যে এখনেই!

আজ ভাবি, কি হত যদি আমি স্রোতের টানে না ভেসে উজানে যেতাম?

কি হত যদি নির্লজ্জ অহংকার ভাঙ্গার অভিমানে আমি রয়ে যেতাম আড়ালেই?

হয়তো কিছুই না- একেবারেই কিছু না…

স্বগোতক্তি

দেশে এইসব কি হইতেছে? এতদিন দেখলাম দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া প্রহসন। এখন দেখি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে প্রহসন। আমরা কি ফুটবল যে সবাই আমাগো লইয়া খেলবো?

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দল। উনারা যুদ্ধাপরাধীদের ইস্যুতে সাপোর্টিভ থাকবেন এইটা স্বাভাবিক। ছিলেন কি? মৌন সমর্থন ছাড়া তারা এ ইস্যুর স্বপক্ষে প্রকৃতপ্রস্তাবে কিস্যু করেন নাই। কারণ, তাতে বর্তমান আওয়ামী লীগের কতিপয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ধরা খাইতে পারে। এ কারণে উনারা জনগণের কাছ থেইকা প্রতিবাদ আশা কইরা বইসা ছিলেন। জামাত-শিবিরের চিহ্নিত রাজাকারদের বিচারের দাবী যখন চলে তখন আওয়ামী লীগ চুপ কইরা মজা নেয়। কিন্তু কিছুই করে না। আর যদি সব রাজাকারের দাবী চাওয়া হয় তাইলে আওয়ামী নেতারা বঙ্গবীরের উপাধি ফেরত নিবেন বইলা হুমকি দেন। উনি নাকি রাজাকারের দোষর!! 

আর এখন শিবির যেইটা শুরু করছে সেইটা তো আরেক প্রহসন। নাস্তিকদের বিচার চাই। কোন জায়গায় আছে যে বিধর্মী বা নাস্তিক ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হবে? মহানবী (সাঃ) এর জীবন দেখেন। উনি (সাঃ) যখন তৌহিদ বা একত্ববাদের প্রচার করেন, তখন লোকেরা তাকে দিকভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট বলত। অত্যাচার করছে, মারছে। কিন্তু তিনি কখনো তাদের সাথে খারাপ করেন নাই। ভালো ব্যবহার ই কইরা গেছেন। খারাপ করা দূরে থাক, তিনি কখনো তাদের খারাপ চান ও নাই। বদ দু’আ করেন নাই। আল্লাহ’র নবী (সাঃ), তাঁর সম্মান আল্লাহর কাছে। সেই সম্মান নষ্ট হয় নাই, হইবও না। আর তৌহিদি জনগণ-আমরা পতাকা পুড়ায়া ফেলবো,চত্বর ভাইঙ্গা ফেলব। এইসব কি? দেশের পতাকা পুইড়া ফেলা কোন ধর্মে আছে?
নাস্তিকতা আমারো পছন্দ না। কিন্তু এইটা যার যার বিশ্বাস। কি করার আছে? আপনি আমি বলতে পারি, কিন্তু পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ। উনি না চাইলে কিছু করার নাই। যে শুদ্ধমনে হেদায়েত চাইবে, আল্লাহ দিবেন। না হলে আমাদের কি করার আছে? মাইরা ফেলবো ধইরা ধইরা? 
”আল্লাহপাক সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না”
আমরা সীমা অতিক্রম করলে আমরাও ওই দলে পইড়া যামু। আমি নাস্তিক ব্লগারের লেখার তীব্র প্রতিবাদ আগে ও করছি, এখনো করি। কিন্তু এর মানে এই না যে অগো ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হইবো। মহানবী (সাঃ) রে সম্মান করেন, উনার জীবন আকড়াইয়া ধরেন। ভালো মানুষ হই আসেন আমরা সবাই। কেউ অন্যায় করছে দেইখা তাগো দেখাদেখি আমরাও অন্যায় করবো এই লাইসেন্স আমাগো ইসলাম দেয় নাই। মহত্ব শিখি আসেন। ক্ষমা করতে শিখি। পস্তাইবেন না। 
”আল্লাহ ধৈর্য্যধারণকারীদের পছন্দ করেন”
জামাত-শিবিরদের আমাদের ধর্মানুভুতি নিয়া খেলতে দিয়েন না। প্লিজ। ওরা যা করতাসে তাও ক্ষমতার লিগাই করতাছে। আপনাগো আল্লাহর দোহাই লাগে। চোখ খুলেন। 

বাঙ্গালী হুজুগে ছিল। এখনো আছে। যে যেদিকে ডাক দেয়, সেদিকেই যাই। এখনো সময় আছে। অন্ধের মত না থাইকা- আসেন পড়ি। জানি- বুঝি। উগ্রতায় কোন সমাধান নাই। নিজের বিবেক খাটাই আসেন। আল্লাহ আমাদের হেদায়েত আর সঠিক বুঝ দেন। আমীন।।

ভালোবাসা তোর জন্য

কিছু কষ্ট থেকে যায়। সব মুছে গেলেও। সময়ের অতলে এরা চাপা পড়ে না কখনোই। অধরা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, ক্ষয়ে ফেলা আত্মপরিচয়, ধর্ষিতার গ্লানি, আরো কত কি। কিন্তু অপূর্ণ ভালোবাসার কষ্ট এমন যা পোড়ায় ৬০ বছর পর ও। পার্থিব কষ্টের মাঝে এটাই সবচে’ কষ্টকর মনে হয় আমার। আমার মা’কে আমি দেখেছি আমরা বড় হওয়ার পরও তার প্রথম দু’ মৃত সন্তানের জন্য চুপি চুপি কাঁদেন। আমেনাবু আর ফাতেমাবু। কিন্তু আমার বোন আজ যে কষ্ট পেয়েছেন, তার বোঝা মা’র থেকেও বেশি হবে এক দিক থেকে। আমেনাবু-ফাতেমাবু এই দুনিয়ার আলো-বাতাস দেখে গেছেন। আমাদের বাবুটা সেটাও দেখলো না। আমি জানি না আমাদের বাবুটা কি হত… আমার বাবা হত, না মা হত আরেকটা… আমি জানি না। আমার মতই আমার বুবু কাঁদছেন আমি জানি। আমার কান্না হয়তো থামবে, তারটা কখনোই থামবে না। আরো চল্লিশ বছর পর আমার বুবু বুক হাতরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। আমি আল্লাহ’র কাছে প্রার্থণা করি আমার বুবুকে উনি ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিন। আর আমাদের বাবুটা ভালো থাকুক। বুবু, বিশ্বাস কর আল্লাহ ওকে ভালো রাখবেন। আর আমাদের ভালোবাসার পূর্ণতা হয়তো হিসেবে বাবুটা আসেনি হয়তো… কিন্তু আমাদের ভালোবাসা তোর জন্য পূর্ণই আছে বাবু…

না দেখা ভালোবাসা, না করা আদর- আমায় আমার মালিক ফিরিয়ে দেবেন কোনদিন। সেই আশায় থাকলাম।

প্রেম

 

রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটে

এক অদ্ভুত অস্থিরতায় বুক কাঁপে সারাক্ষণ

প্রতি মুহুর্তে কারও মৌনস্তুতি

আর অপেক্ষায় নয়ন ঊর্ধমুখি…

কেউ একটু ছুঁয়ে দিলে যেন ভুবন হাতের মুঠোয়

যার চ্ছটায় অপ্সরীরা ম্লান

একটু বিষন্নতায় নামে আঁধারপ্লাবন

যার উচ্ছলতায় বাঁধ ভাঙ্গে জোছনা-

জীবন যেন শুধুই তাকে ঘিরে

তাকে পাবার আশ প্রতি মূহুর্তে

যদি প্রাণও হারে তার জন্যে- নিতান্তই বাঞ্চিত

প্রিয়ার জন্য কিবা বেশি বল?

 

একে তোমরা ভালোবাসা বল, মিলনে যার পূর্ণাঙ্গতা পাও –

কামনা বলি আমি। দেখবে প্রেম কাকে বলে?

দেখো ওই কুঁজো বুড়ো মা তাঁর পঙ্গু ছেলের জন্য বাড়ায় ভিক্ষার ঝুলি,

ল্যাম্পপোস্টের কোণায় যে নিশিকন্যা রাতের সওদা করে-

ঘরে তার ছোট ছোট ভাই-বোন আর অচল বাবা,

দেখো ঐ মজদুরের শীর্ণ শরীরে জ্বরের আঁচ-

তবু বয়ে যায় আমাদের ভার; মেয়ের যে বিয়ে হচ্ছে না যৌতুকের জন্য!

বাড়ীতে বাড়ীতে ফরমায়েশ খেটে যে স্ত্রী চালায় সংসার-

সারাজীবন হারভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে বাবার মত আগলে পরিবার

যে ভাই তার প্রিয়াকে করলো পর;

দেখো আমাদের মুক্তজীবনের স্বপ্নে জীবন দিল

লাখো মুক্তিযোদ্ধা, যাদের সন্তান আজ দুয়ারে দুয়ারে ঘোরে;

যেখানে চাওয়া নেই, প্রত্যাশা নেই, কামনা নেই

শুধুই ভালোবাসা… নিখাদ আর অটুট।

দেখতে পাও না তুমি?

আমি এই স্বার্থপর সমাজেরই কীট

নিজের লাভে সত্যকে মিথ্যা আর দিনকে রাতে বদলে দিই

এ যে আমার পেশা… অস্তিত্বের অবলম্বন।

তোমরা তো শিক্ষিত বিবেকবান সুস্থ মানবসম্প্রদায়

বোঝ না এ মিথ্যে প্রয়াস?

 

 

 

 

 

বোবার বয়ান

বোবাশ্রেণীর প্রাণী বলে প্রায়-ই আমাকে কথা শুনতে হয়েছে জীবনে। আমি বড় চাপা প্রকৃতির। অনুভূতির প্রকাশ আমার কাছে বেশ স্থুল মনে হয়। আমি এ রকমই। যখন অনুভূতির আক্রোশে টিকে থাকা মুশকিল হয় তখন হয়তোবা কাগজের বুকে দুটো টান দিয়ে তাদের মুক্তি দিয়ে দিলাম। আমি আমার অনুভূতিগুলোকে প্রচন্ড রকম ভালোবাসি আর আঁকড়ে থাকি। তাই ওদের ব্যাকুলতা আমার লেখায় আনতে চাই না। নিজের ভেতর রাখাটাই আমার পছন্দ। আমি লেখক বা কবি নই। অতি সাধারণ এক আম মানুষ। যা লেখি আমার ভালোলাগা-মন্দলাগা থেকে। আমার অনুভূতির পংক্তি নিয়ে যাচাই-বাছাই করে মূল্য নির্ধারণ আমার অপছন্দ। আর আমার অনুভূতি থেকে জন্ম নেয়া প্রত্যেকটা শব্দ মানুষ যখন নিজের নিজের মত করে বিশ্লেষণ করে নিজেদের মনগড়া অর্থ দাঁড় করিয়ে নেবে তার দায়ভার আমার নয়। আসলে মানুষের কাছে আমার প্রত্যাশাটা বড় বেশী বলেই হয়তো তাদের অনিহা আর উদাসীনতাটা বড় বাজে। তাই পারতপক্ষে আমি মুখ খুলি না। তারপরও যখন লিখতে বসি- এর মানে আমি আর চুপ করে থাকাটা সমিচীন মনে করছি না বা চুপ করে থাকতে পারছি না।

মূল প্রসঙ্গে আসি। শাহবাগ নিয়ে এ ক’দিন বেশ হুলস্থূল হলো- হচ্ছে। আমি শুনেছি, দেখেছি কিন্তু নিজ থেকে কখনো কিছু বলিনি। আজ বলবো বলে এসেছি।

সমস্ত কিছুর সূত্রপাত একটি দাবী থেকেঃ যুদ্ধাপরাধীদের চূড়ান্ত বিচার বা ফাঁসী। কাদের মোল্লাকে by name উল্লেখ করা হলেও জনগণ আসলে সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধিদের বিচার ই চায়। সরকার এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে একেবারেই জনগণের প্রত্যাশামাফিক কোন পদক্ষেপ ই নেয় নি। আবার সরকার বিরোধিতা ও করছে না। সরকার বা সমাজবিরোধী আন্দোলন হলে তারা চুপ করে থাকতো না এটা নিশ্চিত। তার মানে এটা তাদের স্বার্থবিরোধী নয়। আচ্ছা, এবারে প্রশ্ন হলো তাহলে সরকার চুপ কেন? কেমন যেন একটা খটকা! আমার কাছে সরকারকে আমার মতই নীরব দর্শক মনে হয়েছে। অথচ, জনগণের ন্যায্য দাবিতে সরকারের সায় দিয়ে এগিয়ে আসার কথা। এই সরকার স্বাধিনতার স্বপক্ষের শক্তি। তাদের এই মৌনতাটা আমি মেনে নিতে পারছি না। যারা যুদ্ধাপরাধী তারা দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষের। তাদের অত্যাচার আর নিপীড়নের শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এটা সরকারের হাতে। তারা চাইলে এটা ব্যাপার না। যারা প্রত্যক্ষ আন্দোলনের সাথে জড়িত আমি আপনাদের কাছে কিছু আবেদন নিয়ে এসেছি-

1. দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে আসুন। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রোষের অনলে বা পার্টি স্বার্থ নিয়ে আসবেন না প্লিজ। আমরা দেশের জন্য এসেছি, এক হয়েছি। অন্য কিছুর জন্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। পার্টির রেষারেষি করতে আমরা আসি নি। যদি এরকম কিছু দেখেন, তাদের বোঝান।            উগ্রতার পথ কখনোই ধরবেন না। আমরা অন্যায়ের বিচারের জন্য এসেছি, নিজেরা অন্যায় করতে নয়। আর ন্যায় তখনি হবে যখন আমি-আমরা ন্যায়ের পথ বাছবো। ভুল হয়ে গেলে স্বীকার করবো, ক্ষমা চাইবো, প্রয়োজনে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবো। কিন্তু মিথ্যে বা অন্যায়ের রাস্তা কখনই ধরবো না।

2. কাদের মোল্লা, নিযামী সহ সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধিদের বিচার নিয়ে আন্দোলন করুন। প্রত্যেকের ফাঁসি দাবি করুন। জামাত-শিবিরের বলেই ওদের বিচার হবে আর বি এন পি বা আওয়ামীপন্থি বলে অন্যদের বিচার হবে না ব্যাপারটা ঠিক নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ও সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এক হোন। যদি ন্যায়বিচার চান, তবে তা সবার জন্যই কি বাঞ্ছনীয় নয়?

আর দু’দিন পরপর নিশ্চয়ই আমরা এক ইস্যুতে জড়ো হবো না। স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো আমরা যুদ্ধাপরাধিদের বিচারই করতে পারলাম না। কবে আরো সব হীনতা-দীনতা পায়ে দলে এগুবো? জাতির প্রজন্ম যখন জেগেছে, আসুন সমস্বরে গর্জে উঠি- সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। সরকারকে অবশ্যই শুনতে হবে। সরকার জনগণের প্রতি অন্যায়ের বিচারই যদি না করলো তবে এ সরকারের মানে কি? আসুন, সমস্ত রাজাকারদের লিস্ট করি। শুরু হোক, কাদের মোল্লা আর নিযামী দিয়েই। কিন্তু সমস্ত রাজাকারের বিচার হওয়া চাই এ দফায়ই। পালে হাওয়া থাকতেই চলুন না এগিয়ে যাই।
3. সমসাময়িক প্রপাগান্ডার সাথে সাথে আন্দোলনের রোখ বদলাতে দেবেন না। আমি রাজীব হত্যারও বিচার চাই আমাদের দাবীর সাথে সাথে। কোন ধর্ম, আবেগ বা রাজনৈতিক কারণই আমাদের হত্যা করার অধিকার দেয় না। আর ইসলাম তো নয় ই। আমি এই কথা বলতে পারি এ কারণে যে আমি আমার ধর্ম জানি। আমি পড়ি এবং জানার চেষ্টা করি। এই হত্যাকান্ড যেই ঘটাক না কেন, তার শাস্তি কামনা করি। No murder is justified (except for jurisdiction of crimes).

কিন্তু তাই বলে এর সাথে আস্তিকতা-নাস্তিকতা মিলিয়ে আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেবেন না। কাউকে না। না আওয়ামী, না বি এন পি, না জামাত-শিবির, না আর কারো অধিকার আছে আমাদের অনুভূতি নিয়ে খেলা করার। না তাদের অধিকার আছে আমাদের বিশ্বাসে কুঠারাঘাত করার। আমি জানি না যেই ব্লগ রাজীবের বলে ছড়ানো হচ্ছে তা রাজীবের কিনা আদৌ। রাজনৈতিক মোটিভ থেকে হতে পারে বা নাও পারে। শুধু এটুকু জানি, যে-ই লেখুক খুবই নীচ একটি কাজ করেছেন। যেখানে স্বয়ং বিশ্ব ইতিহাস স্বাক্ষী মুহাম্মাদ (সাঃ) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সেখানে তাকে নিয়ে এরকম বাজে লেখা খুবই হীনতার পরিচয়। আর কিছু না হোক দেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করার কারোর ই নেই। আর তার বিচার রইলো স্বয়ং আল্লাহের কাছে। ঊনার রসুল, ঊনি বুঝবেন। আমি আন্তরিক ঘৃণা প্রকাশ করছি এই কাজের।

যারা উগ্রপন্থী তাদের বলি, এখনো সময় আছে, পড়ুন… জানুন। আল্লাহ তা’আলা তার নবীকে (সাঃ) জগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। হত্যা-অনাচার আর ব্যাভিচারসহ সমস্ত অন্যায় দূর করার জন্য। আর অন্যায় শুধুমাত্র ন্যায় দিয়েই বদলানো যেতে পারে। যেমন অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য আলোর বিকল্প নেই, ঠিক তেমনি ইসলাম বা শান্তির জন্য সহনশীলতার বিকল্প নেই। তসলিমা বা এরকম অন্যান্য যারা লিখেন, তাদের লিখতে দিন। ওদের কাজের বিচার আল্লাহ করবেন।

আওয়ামি উগ্রপন্থীদের বলছি, আপনারা মেরে-কেটে কোন আদর্শ ভেস্তে দিতে পারবেন না। হোক সেটা ভুল। আপনারা যখন জোর করবেন, মারবেন- মানুষের মধ্যে সহানুভূতি জন্ম নেবে। ভুলটা ও স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। এখনকার যে প্রজন্ম শিবির করে, ওরা ভুল পথে গিয়েছে, তাই বলে মেরে ফেলবেন?                                  As I said before, No murder is justified (except for the jurisdiction of crimes). Neither if they kill someone, nor if you kill someone. Killing is killing after all.

ওদের বোঝান। শেখান। ভালোবাসা দিন, ফিরিয়ে আনুন। যদি অন্যায় করে শাস্তি দিন। কিন্তু মেরে-কেটে আপনারা ভাইরাস দূর করতে পারবেন না। আরো ছড়িয়ে যাবে।

পরিশিষ্ট

আমি রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি একজন অতি সাধারণ মুসলমান ও মানুষ। আমি জানি আমার বাবা-মা, মামা-খালু দেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন একটা শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের দেশের জন্য। তারা আজকের এই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অরাজকতার বাংলাদেশ চান নি। সৎ ছিলেন, সারাজীবন ভুগেছেন। কিন্তু অন্যায় করেন নি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি। স্বপ্নচূর্ণের কষ্ট তাদের মাঝে আমি দেখেছি সারা জীবন, কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়িনি। কেননা, তারা আমায় শিখিয়েছেন স্বপ্ন দেখা। আমি আজো বিশ্বাস করি আমাদের স্বপ্নের সেই দিন আসবে। তবে তার জন্য আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। নিজের চেয়ে অন্যের প্রাধান্য দিতে হবে। যদি আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ভীত-স্বার্থপর-অন্ধ হতেন, আজ আমরা স্বাধীন হতাম না। তাদের এই বিসর্জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটিই উপায়। তাদের স্বপ্নভাঙ্গার কষ্টে মলম লাগিয়ে তাদের আত্মার গ্লানি দূর করা। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দিন। আমিন।

The presence

I am surrounded by noises and shadows

I talk to them all the time

Yet I am alone.

But when we have conversation

That unheard silence tells me

I am not alone.

You are none

but an unseen presence to my mind.