Category: বাঁধন

অনাদৃত সঙ্গম

দীঘির জলে আলতো ছোঁয়া

নীলাভো আঁচে লালচে আগুনের মত,

ছুঁয়েছি তোমায় কোমল করে-

এলো তোমার হাসিতে একটু ভেজা

অধরসিক্ত টগরের রক্তিমাভার মত,

ছুঁয়েছ আমায় রঙ্গিন করে-

আলিঙ্গনের তীব্র আশে

একাকার হবার ঝড়ো উন্মত্ততায়,

উড়ে আসি অনাদৃত-

এইতো তুমি হাতের কাছেই

ছুটে যাই আবারিত উল্লাসী পাগল

আমি আবারো অবুঝ-

অস্পৃশ্য আঁচড় আমার পাঁজরে

তোমার চোখের মুক্তোগোছা বলে অব্যক্ততা,

মূর্ছা আমি অপাংক্তেয়-

দেয়ালের ওপারে তুমি একটু ছুঁয়ে যাও

ছুঁতে গিয়ে, মিলিয়ে যাবো বলে,

হয়ে যাই অবাঞ্ছিত-

অঙ্গুলীহেলনে গড়িয়ে দিলে

অবহেলিত গোলকের মত,

দূরত্বই অমোঘ নিয়তি।

প্রশ্নবিদ্ধ

আমি তোমাদের মত উদার নই। তোমাদের মত সাহসী নই।  ভালোবাসার পাঠটা তোমাদের মত তাই আমি বুঝি না। আমি হিংসুটে প্রেমিক। আমি বড় স্বার্থপর। সমস্তকিছু মেনে নেয়া বা গ্রহন করার ক্ষমতা আমার মাঝে নেই। আমি আমার দৃষ্টিতে যা কিছু ভুল দেখি তা-ই অঙ্গুলিহেলনে দৃষ্টিগ্রাহ্য করার অপচেষ্টা আমার আছে। আমার নিজের ক্ষেত্রে হোক বা অপরের ক্ষেত্রে, আমি সর্বদাই এরকম। আমি প্রশ্ন তুলি। আমি লড়ি। যা চাই, আত্মকরণে পুরোপুরি চাই। আমার ভালোবাসায় আমি ছাড় দিতে প্রস্তুত নই। ভুল স্বীকার করতে যেমন আপত্তি নেই, তেমনি আপত্তি নেই অন্যের ভুল মেনে নিতে। আমি জানি আমি পারি না। আমার মত পারো না তুমিও। কিন্তু  চেষ্টা করাটা অন্তত উচিত বলে মনে হয় আমার। আমি আমার মাঝে দেয়াল রাখায় বিশ্বাসী নই। এটা অবশ্যই জরুরী নয় যে আমি-ই ঠিক। কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারি না যে একটা মানুষ যার সঙ্গে আমি সুখে-দুঃখে সবসময় আছি, আমার জীবনে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণভাবে যে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে- তার কাছে আমি আমার স্বপ্ন, বিশ্বাস, আদর্শের মত  জিনিষগুলো কি করে লুকোব? কি করে এগুলো একটা দেয়ালে আবদ্ধ রেখে তাকে আমার পুরোটা দেব? অবশ্যি আমার এ চাওয়াটা হয়তোবা যুক্তিসঙ্গত নয়। কেননা, কিছু মানুষ হয়তো লুকিয়ে রাখতেই জন্মায়। কেউ সইতে, কেউবা সওয়ানোতে বিশ্বাসী। আমার ভালোবাসার মানুষটার অন্যরকম। আমি যখন যা দিই, তা নিয়েই সে সুখি। সে প্রশ্ন তোলে না। চায় না। হিংসা করে না। দেয়াল থাকলেও তার কিছু এসে যায় না। কিন্তু আমার যে আমার ভালোবাসার পুরো পাঠটা পড়া চাই। আমি চাই তার স্বপ্নগুলো নিয়ে এলো করতে, বিশ্বাসকে অনুধাবন করতে- আমার পাঠটাও তাকে দিতে চাই। সে চায় না। বলে, তোমারটা তোমারই থাকুক- আমারটা আমার। আমি যে আমি-তুমি রাখতে চাই না। পুরোটা একাকার করে আমরা হয়ে যেতে চাই। যেখানে আমাতে আর তোমাতে কোন সীমারেখা থাকবে না। হয়তো আমার চাওয়াটা একটু বেশিই। তাই এখনো জোটেনি। যা চাই, তার সব যে পাবই তার তো কোন গ্যারান্টি নেই। তবে ততদিন আপনাতেই আপনি মিশে থাকবো। যেখানে দেয়াল নেই, জানালা নেই- কিচ্ছু নেই। সব স্পষ্ট দিনের আলোর মত। শিক্ষাটা সে না নিলেও আমি তার কাছ থেকে ঠিকই নিয়েছি।শুধু একটা প্রশ্ন থাকে, অনেকটা এ কবিতার মত-

They say there is a window from one heart to another

How can there be a window where no wall remains?

আমার কথা (প্রভু সন্নিবেশ)

অংক ১

 

তখন আমি শিশু- ভাঙ্গনের আওয়াজ শুনি প্রথম

কোন এক বিস্তীর্ণ ভূকম্পে দেখি পৃথিবী টলায়মান

প্রচন্ড এক আতংকে আমি ডুকরে কাঁদি

বলে উঠি- মরণ ভালো এর চেয়ে।

আমার সেই কান্নাভেজা আকুতি শোনেন আমার প্রভু

ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচের পৃথিবী এক করে দেন তিনি…

সেই ফাটল আমি দেখে গেছি চিরদিন

আমার নিভৃতে কেঁদেছি রাতের পর রাত,

টুকরো পৃথিবী আঁকড়ে রাখতে দেখেছি প্রভুর রক্তাক্ত হাত,

আমার কান্নায় মিশে গেছে তাঁর হাহাকার-

তবু তাঁর মুখ দেখেছি আমি কষ্টের অনুভুতিহীন

দেখেছি ভুবনভোলানো হাসিতে পৃথিবীতে আলোর ফোয়ারা।

তারপর ভুলের পর ভুল করে কাঁদিয়েছি তাঁকেই

জানি আমার পৃথিবী অস্থির হবে না তিনি থাকতে

এক অপার নির্ভরতায় তাঁকেই অবহেলা করেছি

ভুলে গেছি প্রভুও ব্যাথিত হন আমার ঔদাসীন্যে।

কোন এক বিষন্ন সন্ধ্যায় দেখেছি তাঁর নিভৃত ক্রন্দন

ভেবেছ, একি করলাম! এর চেয়ে প্রস্থান ভালো।

 

 

অংক-২

 

কতকপর-

আমি আকাশ দেখি বিবর্ণ, সেখানে বিরহের সানাই বাজে

লজ্জিত আমি সংকীর্ণতার খোলসে জড়িয়ে কুঁকড়ে থাকি

প্রখর রোদ আর সবুজহীন প্রান্তরের এক কোণে-

আচমকা রক্তাক্ত প্লাবনের ঢল নামে পৃথিবীর বুকজোড়া

ভাসিয়ে যায় আমার প্রভুর চরণে

কম্পমান আমি অপেক্ষা করি তাঁর মৌনব্রত ভাঙ্গার

আমায় দেখে তিনি হুংকার করে ওঠেন

ভীত-অভিমানী আবার উঠি

এবার শাসন করেন তিনি- প্রভুর অধিকারে নত হই আমি।

প্রভু আমায় ঠাই দেন তাঁর অসীম অন্তরীক্ষে-

তাকিয়ে দেখি রক্তের প্লাবন বাহিরে নেই আর

এর উৎস যে এখনেই!

আজ ভাবি, কি হত যদি আমি স্রোতের টানে না ভেসে উজানে যেতাম?

কি হত যদি নির্লজ্জ অহংকার ভাঙ্গার অভিমানে আমি রয়ে যেতাম আড়ালেই?

হয়তো কিছুই না- একেবারেই কিছু না…

খোলা চিঠি

বুবু,
জানি যতটা কষ্ট ওই আকাশের চূড়ায়
ঠিক ততটায় তোকেও কাঁদায়,
স্বপ্নচূড়ের একমুঠো গ্লানি আসে ফিরে
বারবার তোর মন সমুদ্রের তীরে,
কালো নিকষ একটা পর্দা টানা
তার নিষ্করণ এখনো হলো না-

তবু জানি একদিন,
কষ্ট ছেড়ে দূরদেশেতে
সুখ সাগরের জোয়ারেতে,
আমরা সবাই একসাথে
দিন-রাতি ভাসবো তাতে,
স্বপ্ন সকল হাতের মুঠোয়-
তুই দেখে নিস বুবু
তুই দেখে নিস।

-তোর অবুঝ ছেলে

ভালোবাসা তোর জন্য

কিছু কষ্ট থেকে যায়। সব মুছে গেলেও। সময়ের অতলে এরা চাপা পড়ে না কখনোই। অধরা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, ক্ষয়ে ফেলা আত্মপরিচয়, ধর্ষিতার গ্লানি, আরো কত কি। কিন্তু অপূর্ণ ভালোবাসার কষ্ট এমন যা পোড়ায় ৬০ বছর পর ও। পার্থিব কষ্টের মাঝে এটাই সবচে’ কষ্টকর মনে হয় আমার। আমার মা’কে আমি দেখেছি আমরা বড় হওয়ার পরও তার প্রথম দু’ মৃত সন্তানের জন্য চুপি চুপি কাঁদেন। আমেনাবু আর ফাতেমাবু। কিন্তু আমার বোন আজ যে কষ্ট পেয়েছেন, তার বোঝা মা’র থেকেও বেশি হবে এক দিক থেকে। আমেনাবু-ফাতেমাবু এই দুনিয়ার আলো-বাতাস দেখে গেছেন। আমাদের বাবুটা সেটাও দেখলো না। আমি জানি না আমাদের বাবুটা কি হত… আমার বাবা হত, না মা হত আরেকটা… আমি জানি না। আমার মতই আমার বুবু কাঁদছেন আমি জানি। আমার কান্না হয়তো থামবে, তারটা কখনোই থামবে না। আরো চল্লিশ বছর পর আমার বুবু বুক হাতরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। আমি আল্লাহ’র কাছে প্রার্থণা করি আমার বুবুকে উনি ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিন। আর আমাদের বাবুটা ভালো থাকুক। বুবু, বিশ্বাস কর আল্লাহ ওকে ভালো রাখবেন। আর আমাদের ভালোবাসার পূর্ণতা হয়তো হিসেবে বাবুটা আসেনি হয়তো… কিন্তু আমাদের ভালোবাসা তোর জন্য পূর্ণই আছে বাবু…

না দেখা ভালোবাসা, না করা আদর- আমায় আমার মালিক ফিরিয়ে দেবেন কোনদিন। সেই আশায় থাকলাম।

অভিমান- সাজা- প্রার্থনা

 

 

একি সাজা দিলে আমায়?

হয়তঃ অপরাধ করেছি আমি

গিয়েছি ডিঙ্গিয়ে তোমার এঁকে দেয়া সীমানা,

শুনিনি তোমার কথা বহুদিন

বলিনি মনের আকুতিও,

লুকিয়েছি যত কষ্ট অভিমানে

তুমি বোঝ নি?

বিরহের কষ্টে যতখানি জ্বলেছ তুমি

তার চেয়ে কম কি জ্বলেছি?

স্রষ্টার হারিয়ে যাওয়া পংক্তিখানি-

ওলট-পালট,

নিজেকে কি হারায়নি একেবারেই?

আমি বলেছি আসবোনা… কখনো আসবো না…

কেন টানলে না? বললে না- কোথা যাবি আমা ছেড়ে?

আমি চির অবুঝ… কে চেনে বল তুমি ছাড়া?

কেন বোঝালে না?

জানোনি তুমিহীনা আমার অস্তিত্বের সংকট?

আমায় দূরে রেখে শান্তি পাও বুঝি?

আমি তবে আসবো না…

কেন যাবো যদি না ডাকো?

কেন দিলে বলো এত্তো বড় সাজা?

আমার কষ্ট তোমার বুকে বাজে না বুঝি?

বাজুক তবে আমার বুকেই। বাজতে দাও যদি চাও…

তবে শপথ করে বলি,

যদি তুমিও অনুভব কর যা আমি করি

আর দিও না সাজা… কষ্ট হয় বড়!!!

 

 

বোবার বয়ান

বোবাশ্রেণীর প্রাণী বলে প্রায়-ই আমাকে কথা শুনতে হয়েছে জীবনে। আমি বড় চাপা প্রকৃতির। অনুভূতির প্রকাশ আমার কাছে বেশ স্থুল মনে হয়। আমি এ রকমই। যখন অনুভূতির আক্রোশে টিকে থাকা মুশকিল হয় তখন হয়তোবা কাগজের বুকে দুটো টান দিয়ে তাদের মুক্তি দিয়ে দিলাম। আমি আমার অনুভূতিগুলোকে প্রচন্ড রকম ভালোবাসি আর আঁকড়ে থাকি। তাই ওদের ব্যাকুলতা আমার লেখায় আনতে চাই না। নিজের ভেতর রাখাটাই আমার পছন্দ। আমি লেখক বা কবি নই। অতি সাধারণ এক আম মানুষ। যা লেখি আমার ভালোলাগা-মন্দলাগা থেকে। আমার অনুভূতির পংক্তি নিয়ে যাচাই-বাছাই করে মূল্য নির্ধারণ আমার অপছন্দ। আর আমার অনুভূতি থেকে জন্ম নেয়া প্রত্যেকটা শব্দ মানুষ যখন নিজের নিজের মত করে বিশ্লেষণ করে নিজেদের মনগড়া অর্থ দাঁড় করিয়ে নেবে তার দায়ভার আমার নয়। আসলে মানুষের কাছে আমার প্রত্যাশাটা বড় বেশী বলেই হয়তো তাদের অনিহা আর উদাসীনতাটা বড় বাজে। তাই পারতপক্ষে আমি মুখ খুলি না। তারপরও যখন লিখতে বসি- এর মানে আমি আর চুপ করে থাকাটা সমিচীন মনে করছি না বা চুপ করে থাকতে পারছি না।

মূল প্রসঙ্গে আসি। শাহবাগ নিয়ে এ ক’দিন বেশ হুলস্থূল হলো- হচ্ছে। আমি শুনেছি, দেখেছি কিন্তু নিজ থেকে কখনো কিছু বলিনি। আজ বলবো বলে এসেছি।

সমস্ত কিছুর সূত্রপাত একটি দাবী থেকেঃ যুদ্ধাপরাধীদের চূড়ান্ত বিচার বা ফাঁসী। কাদের মোল্লাকে by name উল্লেখ করা হলেও জনগণ আসলে সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধিদের বিচার ই চায়। সরকার এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে একেবারেই জনগণের প্রত্যাশামাফিক কোন পদক্ষেপ ই নেয় নি। আবার সরকার বিরোধিতা ও করছে না। সরকার বা সমাজবিরোধী আন্দোলন হলে তারা চুপ করে থাকতো না এটা নিশ্চিত। তার মানে এটা তাদের স্বার্থবিরোধী নয়। আচ্ছা, এবারে প্রশ্ন হলো তাহলে সরকার চুপ কেন? কেমন যেন একটা খটকা! আমার কাছে সরকারকে আমার মতই নীরব দর্শক মনে হয়েছে। অথচ, জনগণের ন্যায্য দাবিতে সরকারের সায় দিয়ে এগিয়ে আসার কথা। এই সরকার স্বাধিনতার স্বপক্ষের শক্তি। তাদের এই মৌনতাটা আমি মেনে নিতে পারছি না। যারা যুদ্ধাপরাধী তারা দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষের। তাদের অত্যাচার আর নিপীড়নের শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এটা সরকারের হাতে। তারা চাইলে এটা ব্যাপার না। যারা প্রত্যক্ষ আন্দোলনের সাথে জড়িত আমি আপনাদের কাছে কিছু আবেদন নিয়ে এসেছি-

1. দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে আসুন। ব্যক্তিকেন্দ্রিক রোষের অনলে বা পার্টি স্বার্থ নিয়ে আসবেন না প্লিজ। আমরা দেশের জন্য এসেছি, এক হয়েছি। অন্য কিছুর জন্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা। পার্টির রেষারেষি করতে আমরা আসি নি। যদি এরকম কিছু দেখেন, তাদের বোঝান।            উগ্রতার পথ কখনোই ধরবেন না। আমরা অন্যায়ের বিচারের জন্য এসেছি, নিজেরা অন্যায় করতে নয়। আর ন্যায় তখনি হবে যখন আমি-আমরা ন্যায়ের পথ বাছবো। ভুল হয়ে গেলে স্বীকার করবো, ক্ষমা চাইবো, প্রয়োজনে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবো। কিন্তু মিথ্যে বা অন্যায়ের রাস্তা কখনই ধরবো না।

2. কাদের মোল্লা, নিযামী সহ সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধিদের বিচার নিয়ে আন্দোলন করুন। প্রত্যেকের ফাঁসি দাবি করুন। জামাত-শিবিরের বলেই ওদের বিচার হবে আর বি এন পি বা আওয়ামীপন্থি বলে অন্যদের বিচার হবে না ব্যাপারটা ঠিক নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ও সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এক হোন। যদি ন্যায়বিচার চান, তবে তা সবার জন্যই কি বাঞ্ছনীয় নয়?

আর দু’দিন পরপর নিশ্চয়ই আমরা এক ইস্যুতে জড়ো হবো না। স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো আমরা যুদ্ধাপরাধিদের বিচারই করতে পারলাম না। কবে আরো সব হীনতা-দীনতা পায়ে দলে এগুবো? জাতির প্রজন্ম যখন জেগেছে, আসুন সমস্বরে গর্জে উঠি- সমস্ত রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে। সরকারকে অবশ্যই শুনতে হবে। সরকার জনগণের প্রতি অন্যায়ের বিচারই যদি না করলো তবে এ সরকারের মানে কি? আসুন, সমস্ত রাজাকারদের লিস্ট করি। শুরু হোক, কাদের মোল্লা আর নিযামী দিয়েই। কিন্তু সমস্ত রাজাকারের বিচার হওয়া চাই এ দফায়ই। পালে হাওয়া থাকতেই চলুন না এগিয়ে যাই।
3. সমসাময়িক প্রপাগান্ডার সাথে সাথে আন্দোলনের রোখ বদলাতে দেবেন না। আমি রাজীব হত্যারও বিচার চাই আমাদের দাবীর সাথে সাথে। কোন ধর্ম, আবেগ বা রাজনৈতিক কারণই আমাদের হত্যা করার অধিকার দেয় না। আর ইসলাম তো নয় ই। আমি এই কথা বলতে পারি এ কারণে যে আমি আমার ধর্ম জানি। আমি পড়ি এবং জানার চেষ্টা করি। এই হত্যাকান্ড যেই ঘটাক না কেন, তার শাস্তি কামনা করি। No murder is justified (except for jurisdiction of crimes).

কিন্তু তাই বলে এর সাথে আস্তিকতা-নাস্তিকতা মিলিয়ে আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেবেন না। কাউকে না। না আওয়ামী, না বি এন পি, না জামাত-শিবির, না আর কারো অধিকার আছে আমাদের অনুভূতি নিয়ে খেলা করার। না তাদের অধিকার আছে আমাদের বিশ্বাসে কুঠারাঘাত করার। আমি জানি না যেই ব্লগ রাজীবের বলে ছড়ানো হচ্ছে তা রাজীবের কিনা আদৌ। রাজনৈতিক মোটিভ থেকে হতে পারে বা নাও পারে। শুধু এটুকু জানি, যে-ই লেখুক খুবই নীচ একটি কাজ করেছেন। যেখানে স্বয়ং বিশ্ব ইতিহাস স্বাক্ষী মুহাম্মাদ (সাঃ) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সেখানে তাকে নিয়ে এরকম বাজে লেখা খুবই হীনতার পরিচয়। আর কিছু না হোক দেশের সিংহভাগ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করার কারোর ই নেই। আর তার বিচার রইলো স্বয়ং আল্লাহের কাছে। ঊনার রসুল, ঊনি বুঝবেন। আমি আন্তরিক ঘৃণা প্রকাশ করছি এই কাজের।

যারা উগ্রপন্থী তাদের বলি, এখনো সময় আছে, পড়ুন… জানুন। আল্লাহ তা’আলা তার নবীকে (সাঃ) জগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। হত্যা-অনাচার আর ব্যাভিচারসহ সমস্ত অন্যায় দূর করার জন্য। আর অন্যায় শুধুমাত্র ন্যায় দিয়েই বদলানো যেতে পারে। যেমন অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য আলোর বিকল্প নেই, ঠিক তেমনি ইসলাম বা শান্তির জন্য সহনশীলতার বিকল্প নেই। তসলিমা বা এরকম অন্যান্য যারা লিখেন, তাদের লিখতে দিন। ওদের কাজের বিচার আল্লাহ করবেন।

আওয়ামি উগ্রপন্থীদের বলছি, আপনারা মেরে-কেটে কোন আদর্শ ভেস্তে দিতে পারবেন না। হোক সেটা ভুল। আপনারা যখন জোর করবেন, মারবেন- মানুষের মধ্যে সহানুভূতি জন্ম নেবে। ভুলটা ও স্বীকৃতি পেয়ে যাবে। এখনকার যে প্রজন্ম শিবির করে, ওরা ভুল পথে গিয়েছে, তাই বলে মেরে ফেলবেন?                                  As I said before, No murder is justified (except for the jurisdiction of crimes). Neither if they kill someone, nor if you kill someone. Killing is killing after all.

ওদের বোঝান। শেখান। ভালোবাসা দিন, ফিরিয়ে আনুন। যদি অন্যায় করে শাস্তি দিন। কিন্তু মেরে-কেটে আপনারা ভাইরাস দূর করতে পারবেন না। আরো ছড়িয়ে যাবে।

পরিশিষ্ট

আমি রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি একজন অতি সাধারণ মুসলমান ও মানুষ। আমি জানি আমার বাবা-মা, মামা-খালু দেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন একটা শান্তিপূর্ণ স্বপ্নের দেশের জন্য। তারা আজকের এই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অরাজকতার বাংলাদেশ চান নি। সৎ ছিলেন, সারাজীবন ভুগেছেন। কিন্তু অন্যায় করেন নি, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি। স্বপ্নচূর্ণের কষ্ট তাদের মাঝে আমি দেখেছি সারা জীবন, কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়িনি। কেননা, তারা আমায় শিখিয়েছেন স্বপ্ন দেখা। আমি আজো বিশ্বাস করি আমাদের স্বপ্নের সেই দিন আসবে। তবে তার জন্য আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। নিজের চেয়ে অন্যের প্রাধান্য দিতে হবে। যদি আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ভীত-স্বার্থপর-অন্ধ হতেন, আজ আমরা স্বাধীন হতাম না। তাদের এই বিসর্জনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটিই উপায়। তাদের স্বপ্নভাঙ্গার কষ্টে মলম লাগিয়ে তাদের আত্মার গ্লানি দূর করা। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দিন। আমিন।