শ্মশানের চাঁদ

এখন শুক্লা তিমির
প্রহর ভাসে মায়ার্ত ছায়ায়
পথে পথ হেটে যায়
যুগলবন্দীর পা-
কাঁপা প্রতিচ্ছবি দেখে
ত্রয়োদশী ঘাটের সিঁড়িতে;
ছাঁদের রেলিংয়ে আলো গলে
নববধূর পা ধুইয়ে যায়।
এলো কিশোর তখন ময়দানে
কি এক অবাক টানে চলে এলো!
আর-
বুনো দূর্বায় অস্ফুটেই পড়ে থাকে
শ্মশানবাসী করম খাঁ।
এক জনম গত
ঘর থেকেও চিরায়ত বাউল-
অবারিত চান্নি পসরে মেতেছে।
হেঁটেছে গ্রামান্তর
শহর-বন্দর-মাঠ;
কখনো যুগলে কখনো একেলা-
অজস্র জ্যোৎস্নাগহনে
সুরের সাজে এফোঁড়-ওফোঁড়
বুনেছে শত মায়াকাব্য।
সেইবার যখন হাঁপানির টান এলো
তাতেও সে উঠোনে,
লাশ জোছনায় ধুলো আগে
তাঁর শেষ ইচ্ছেমাফিক।
শ্মশানের চাঁদ আর করম খাঁ
বিগত হওয়া এক দূর্বার প্রেম-
এখনো শুক্লা আসে
শ্মশানেও জ্যোৎস্না ভাসে;
শুধু অনুভূতিতে নেই অনুভবেরা।
অন্ধত্বের গারদে বাস করুক করম খাঁ-
আর একবুক অপারগতায় হেসে যাক শ্মশানের চাঁদ।

Advertisements
This entry was posted in Poems. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s