পুরুষ নির্যাতনের নমুনা

সারাজীবন নারীবিদ্বেষ আর নারী নির্যাতনের কথা শুনেই গেলাম। আমি কখনোই এর পক্ষে বলবো না। কিন্তু যেটা বলতে চাইছি আজ সেটা হলো পুরুষরাও trauma দিয়ে যায়। আমি মানি ন্যাচারালি  পুরুষরা রুক্ষ টাইপ এবং চাছাছোলা। এরা কখনো নরম করে কিছু চাইতে জানে না। Bossy ভাবটা বেশি। যার কারণে আজকালকার মেয়েরা এ টাইপের ছেলে পছন্দ করে না। এটাকে ঠিকও আমি বলবো না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন থেকে মেয়েরা Bossy পোলাপান অপছন্দ করা শুরু করেছে- ironically তারা নিজেরা তা করা শুরু করেছে। শুধু তাই না- এটা এখন নাকি তেমন সমস্যাও না। ‘উনি শুধুমাত্র একটু bossy এই যা। কিন্তু মানুষ খারাপ না।’ অথচ এই দোষটার কারণেই পুরুষ সর্বজায়গায় দোষী- কর্তৃত্বপরায়ন, স্বৈরাচারি ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

আর বাস্তবতা হলো নারীরাই সংসার চালান। কর্তৃত্বও উনাদের। বাসার জামাই, বাচ্চা-কাচ্চা সবাইকে তাদের মা বা বউয়ের কথা শুনেই চলা লাগে। পুরুষ মানুষের চল নাই বাসায়। বিশ্বাস না হলে যে randomly যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন। যতবড় বুজুর্গ হোক বা নেতা, বাসায় বৌ এর কাছে তার কোন কদর নাই। এটা চাওয়াও হাস্যকর। কিন্তু ঘটনাটা তুলেছি অন্য কারণে। কোন স্বামী স্ত্রী’র প্রশংসা না করলে খারাপ। আমি মানি। কিন্তু ক’জন স্ত্রী স্বামীর প্রশংসা করেন? স্বামী কি সংসারের জন্য করেন না? মা-বাবা, ভাই-বোন, বৌ, শ্বশুরালয় নিয়ে চলেন না? একজন বাবা হিসেবে সন্তানের যত্ন করেন না? আমি এরকম স্বামী অনেক দেখেছি যারা স্ত্রীকে রান্না করে খাওয়ান, ঘরের কাজ করেন এবং বাইরেরও ঠিক যেমন অন্য অনেক কর্মজীবি মহিলার করেন। Literally. অথচ সমাজে- টিভিতে- ফেসবুকে-পত্রিকায় খুললে এসব কখনো শুনেছেন কি? শুধু নারী নির্যাতন আর পুরুষবিদ্বেষের ছড়াছড়ি। যেন এই প্রজাতিটার জন্মই হয়েছে শুধু নারীজাতিকে শোষন করার জন্য। C’mon… grow up! পুরুষের যেমন ভালো-খারাপ আছে, মেয়েদেরও আছে। পুরুষদের পচিয়ে যেসব নট্যরঙ্গের অবতারণা করা হয় তার প্রতিবাদে বলছি- আজকে নারীদের নিজেদের মধ্যে সহাবস্থান হয়ে যাক, কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগেরো বেশি শ্বশুরালয়ের নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে। এটা নারীদের কর্তৃত্বের লড়াই থাকে নিজেদের মধ্যে। অনেকটা হাসিনা-খালেদা’র মত।

 

একজন পুরুষ জন্ম থেকেই pro active টাইপের হয়। ক্রোমোজম Y এর বদৌলতেই কিনা জানি না দৌড়-ঝাপ বেশি ছোটবেলা থেকেই। ছেলেবেলা থেকেই মায়েরা বাচ্চাদের শক্ত করে গড়ে তোলেন। ধরুন বাচ্চাছেলে পড়ে পা ছিলে ফেলেছে। মা বলবেন, আরে বোকা ছেলে আমার! কাঁদে নাকি? ছেলেদের কাঁদতে নেই। ছেলে চোখ মোছে। বড় হতে থাকে আর ভাবে- ছোটবেলায় কি বোকাই না ছিলাম! এখন পা ছিড়ে গেলেও অপারেশনের পর দেখা যায় চোখ মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কিন্তু কান্না নেই। সে কাঁদলে মা যে আরো ভেঙ্গে পড়বে। আমার ভাইয়ের জ্বর হলে আমরা ততক্ষন জানতাম না যতক্ষনে সে রক্তবমি শুরু না করেছে। সে সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। যদি অটোমেটিক্যালি চোখ দিয়ে পানি পড়ে তো পড়লো, সজ্ঞানে তিনি কাঁদবেন না! তাই বলে কি উনার ব্যাথা কম লাগে? বড় আপুর সংসারের বিতিকিচ্ছিরি সমস্যা ছিল, সবাই কাঁদছে- ভাইয়া বালিশে মুখ গুঁজে আছেন। কিছু না বলে চুপচাপ উঠে চলে গেলেন। উনার চোখ ভেজা- রক্তিম। কান্না দমানোর প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তার।

 

একজন সাধারণ পুরুষকে আমি শুধু সহ্য করে যেতে দেখি। বাবা মারা যাওয়ায় তাড়াতাড়িই সংসারের দায় তার কাঁধে বর্তালো। ছোট ভাই-বোনদের পড়ালো। নিজে বিয়ে করতে করতে ৩০ ক্রস করে ফেলল। নিজের জন্য কিছুই জমানো নাই। বউ আসলো সংসারে। বউয়ের কথা- নিজেদের সন্তানের জন্য করতে হবে। কথা ঠিক। কিন্তু বুড়ো মা আর বিধবা বোন বা অথর্ব ভাইকে তো ফেলে দেয়া যায় না। ওদের জন্য করতে গেলে সঞ্চয় হয়ে ওঠে না। এ নিয়ে কথাবার্তা, অশান্তি। বউ শ্বাশুরীকে দেখতে পারে না, শ্বাশুরী পারে না বউকে দেখতে। বেচারা ছেলে- মায়ের দিকে তাকাবে না বউয়ের দিকে। বিশেষতঃ যখন দু’জনই মুখ ভার করে বসে থাকে। সম্পর্কের বেড়াজালে স্ত্রী’র মনেও আসে না, মায়ের মনেও আসে না- ছেলেটা কেমন আছে। এনারা শুধু বোঝেন আমার ভাল্লাগে না। (logic- anti logic কোন কিছুর বেইল তো নাই। instnict বা emotion যা বলে তাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ। তাই না?) ব্যাস! আর উনাদের এই কাটাকাটিতে ছেলের মনে যে কি রক্তক্ষরণ হয় তা না সমাজ কোনদিন দেখেছে, না দেখবে। দেখবে কি করে, আপন-রাই তো কখনো দেখলো না। এটার যে শারীরিক কোন দাগ নেই, প্রমান নেই! কোর্টে কাচারিতে তো মামলা টিকবে না প্রমান ছাড়া। পুরুষ মানুষ, জন্মের পর থেকে শুনে এসেছে কান্না লজ্জার। কাঁদতেও পারে না। কে বুঝবে তার কষ্ট? তার না ভাষা আছে, না আছে কাঁদার ক্ষমতা, নিজের কষ্টের কথা বলে সে অভ্যস্তও নয়। সে জানে শুধু জমিয়ে রাখতে। কোনসময় যখন আগ্নেয়গিরি ফাটে- লাভা বাহির হয়, তখন সবাই বলে, আহারে পাষণ্ড! করছস কি? বৌ যদি মায়ের পেটের বোন জড়িয়ে বাজে কথা বলে- মা জড়িয়ে বলে- ক’জন কতদিন শুনবে বলেন? কিন্তু তাই বলে গায়ে হাত! ‘বৌয়ের গায়ে হাত তুলতে পারলি?’ (হয়ে গেলো নারী নির্যাতন)

আমি বলি, আপনি মাইরি, মানুষ নাহ পশু? পুরুষই থেকে গেলেন। শোষন ছাড়া আর কিছু করলেন না জীবনে। আহারে অবলা নারী!

 

‘চুপ কর’ বললে বাক স্বাধীনতা যায় আর কেউ কেউতো এরপরো থামে না। কিন্তু যত যাই হোক, আপনি পুরুষ। আপনাকে সহ্য করতে হবে। হাত তুলবেন না, শাসাবেন না, bossy হবেন না, কিছু চাপাবেন না এবং সর্বোপরি কাঁদবেন না। আপনার অনুভূতি নামক যন্ত্রটি কাজ না করলে ভালো। আর যদি করে তবে ইমিডিয়েটলি সেটা সার্ভিসিং এ দিয়ে অকেজো করে নিয়ে আসুন। কারণ, আপনার হার্ডওয়ারের সাথে এটির এসেম্বলি না হলেই বেটার।

 

 

বিঃদ্রঃ নারী নির্যাতনের পক্ষে বলা হয় নাই। পুরুষ নির্যাতনের কিঞ্চিৎ নমুনা দিলাম। স্টকে আরো আছে। কিন্তু শরমের লিগা বাইর করতে মনে চায় না।

Advertisements
This entry was posted in Articles. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s