Month: July 2013

পুরুষ নির্যাতনের নমুনা

সারাজীবন নারীবিদ্বেষ আর নারী নির্যাতনের কথা শুনেই গেলাম। আমি কখনোই এর পক্ষে বলবো না। কিন্তু যেটা বলতে চাইছি আজ সেটা হলো পুরুষরাও trauma দিয়ে যায়। আমি মানি ন্যাচারালি  পুরুষরা রুক্ষ টাইপ এবং চাছাছোলা। এরা কখনো নরম করে কিছু চাইতে জানে না। Bossy ভাবটা বেশি। যার কারণে আজকালকার মেয়েরা এ টাইপের ছেলে পছন্দ করে না। এটাকে ঠিকও আমি বলবো না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যখন থেকে মেয়েরা Bossy পোলাপান অপছন্দ করা শুরু করেছে- ironically তারা নিজেরা তা করা শুরু করেছে। শুধু তাই না- এটা এখন নাকি তেমন সমস্যাও না। ‘উনি শুধুমাত্র একটু bossy এই যা। কিন্তু মানুষ খারাপ না।’ অথচ এই দোষটার কারণেই পুরুষ সর্বজায়গায় দোষী- কর্তৃত্বপরায়ন, স্বৈরাচারি ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

আর বাস্তবতা হলো নারীরাই সংসার চালান। কর্তৃত্বও উনাদের। বাসার জামাই, বাচ্চা-কাচ্চা সবাইকে তাদের মা বা বউয়ের কথা শুনেই চলা লাগে। পুরুষ মানুষের চল নাই বাসায়। বিশ্বাস না হলে যে randomly যাচাই-বাছাই করে দেখতে পারেন। যতবড় বুজুর্গ হোক বা নেতা, বাসায় বৌ এর কাছে তার কোন কদর নাই। এটা চাওয়াও হাস্যকর। কিন্তু ঘটনাটা তুলেছি অন্য কারণে। কোন স্বামী স্ত্রী’র প্রশংসা না করলে খারাপ। আমি মানি। কিন্তু ক’জন স্ত্রী স্বামীর প্রশংসা করেন? স্বামী কি সংসারের জন্য করেন না? মা-বাবা, ভাই-বোন, বৌ, শ্বশুরালয় নিয়ে চলেন না? একজন বাবা হিসেবে সন্তানের যত্ন করেন না? আমি এরকম স্বামী অনেক দেখেছি যারা স্ত্রীকে রান্না করে খাওয়ান, ঘরের কাজ করেন এবং বাইরেরও ঠিক যেমন অন্য অনেক কর্মজীবি মহিলার করেন। Literally. অথচ সমাজে- টিভিতে- ফেসবুকে-পত্রিকায় খুললে এসব কখনো শুনেছেন কি? শুধু নারী নির্যাতন আর পুরুষবিদ্বেষের ছড়াছড়ি। যেন এই প্রজাতিটার জন্মই হয়েছে শুধু নারীজাতিকে শোষন করার জন্য। C’mon… grow up! পুরুষের যেমন ভালো-খারাপ আছে, মেয়েদেরও আছে। পুরুষদের পচিয়ে যেসব নট্যরঙ্গের অবতারণা করা হয় তার প্রতিবাদে বলছি- আজকে নারীদের নিজেদের মধ্যে সহাবস্থান হয়ে যাক, কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগেরো বেশি শ্বশুরালয়ের নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে। এটা নারীদের কর্তৃত্বের লড়াই থাকে নিজেদের মধ্যে। অনেকটা হাসিনা-খালেদা’র মত।

 

একজন পুরুষ জন্ম থেকেই pro active টাইপের হয়। ক্রোমোজম Y এর বদৌলতেই কিনা জানি না দৌড়-ঝাপ বেশি ছোটবেলা থেকেই। ছেলেবেলা থেকেই মায়েরা বাচ্চাদের শক্ত করে গড়ে তোলেন। ধরুন বাচ্চাছেলে পড়ে পা ছিলে ফেলেছে। মা বলবেন, আরে বোকা ছেলে আমার! কাঁদে নাকি? ছেলেদের কাঁদতে নেই। ছেলে চোখ মোছে। বড় হতে থাকে আর ভাবে- ছোটবেলায় কি বোকাই না ছিলাম! এখন পা ছিড়ে গেলেও অপারেশনের পর দেখা যায় চোখ মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। কিন্তু কান্না নেই। সে কাঁদলে মা যে আরো ভেঙ্গে পড়বে। আমার ভাইয়ের জ্বর হলে আমরা ততক্ষন জানতাম না যতক্ষনে সে রক্তবমি শুরু না করেছে। সে সময় তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। যদি অটোমেটিক্যালি চোখ দিয়ে পানি পড়ে তো পড়লো, সজ্ঞানে তিনি কাঁদবেন না! তাই বলে কি উনার ব্যাথা কম লাগে? বড় আপুর সংসারের বিতিকিচ্ছিরি সমস্যা ছিল, সবাই কাঁদছে- ভাইয়া বালিশে মুখ গুঁজে আছেন। কিছু না বলে চুপচাপ উঠে চলে গেলেন। উনার চোখ ভেজা- রক্তিম। কান্না দমানোর প্রাণপণ চেষ্টা ছিল তার।

 

একজন সাধারণ পুরুষকে আমি শুধু সহ্য করে যেতে দেখি। বাবা মারা যাওয়ায় তাড়াতাড়িই সংসারের দায় তার কাঁধে বর্তালো। ছোট ভাই-বোনদের পড়ালো। নিজে বিয়ে করতে করতে ৩০ ক্রস করে ফেলল। নিজের জন্য কিছুই জমানো নাই। বউ আসলো সংসারে। বউয়ের কথা- নিজেদের সন্তানের জন্য করতে হবে। কথা ঠিক। কিন্তু বুড়ো মা আর বিধবা বোন বা অথর্ব ভাইকে তো ফেলে দেয়া যায় না। ওদের জন্য করতে গেলে সঞ্চয় হয়ে ওঠে না। এ নিয়ে কথাবার্তা, অশান্তি। বউ শ্বাশুরীকে দেখতে পারে না, শ্বাশুরী পারে না বউকে দেখতে। বেচারা ছেলে- মায়ের দিকে তাকাবে না বউয়ের দিকে। বিশেষতঃ যখন দু’জনই মুখ ভার করে বসে থাকে। সম্পর্কের বেড়াজালে স্ত্রী’র মনেও আসে না, মায়ের মনেও আসে না- ছেলেটা কেমন আছে। এনারা শুধু বোঝেন আমার ভাল্লাগে না। (logic- anti logic কোন কিছুর বেইল তো নাই। instnict বা emotion যা বলে তাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ। তাই না?) ব্যাস! আর উনাদের এই কাটাকাটিতে ছেলের মনে যে কি রক্তক্ষরণ হয় তা না সমাজ কোনদিন দেখেছে, না দেখবে। দেখবে কি করে, আপন-রাই তো কখনো দেখলো না। এটার যে শারীরিক কোন দাগ নেই, প্রমান নেই! কোর্টে কাচারিতে তো মামলা টিকবে না প্রমান ছাড়া। পুরুষ মানুষ, জন্মের পর থেকে শুনে এসেছে কান্না লজ্জার। কাঁদতেও পারে না। কে বুঝবে তার কষ্ট? তার না ভাষা আছে, না আছে কাঁদার ক্ষমতা, নিজের কষ্টের কথা বলে সে অভ্যস্তও নয়। সে জানে শুধু জমিয়ে রাখতে। কোনসময় যখন আগ্নেয়গিরি ফাটে- লাভা বাহির হয়, তখন সবাই বলে, আহারে পাষণ্ড! করছস কি? বৌ যদি মায়ের পেটের বোন জড়িয়ে বাজে কথা বলে- মা জড়িয়ে বলে- ক’জন কতদিন শুনবে বলেন? কিন্তু তাই বলে গায়ে হাত! ‘বৌয়ের গায়ে হাত তুলতে পারলি?’ (হয়ে গেলো নারী নির্যাতন)

আমি বলি, আপনি মাইরি, মানুষ নাহ পশু? পুরুষই থেকে গেলেন। শোষন ছাড়া আর কিছু করলেন না জীবনে। আহারে অবলা নারী!

 

‘চুপ কর’ বললে বাক স্বাধীনতা যায় আর কেউ কেউতো এরপরো থামে না। কিন্তু যত যাই হোক, আপনি পুরুষ। আপনাকে সহ্য করতে হবে। হাত তুলবেন না, শাসাবেন না, bossy হবেন না, কিছু চাপাবেন না এবং সর্বোপরি কাঁদবেন না। আপনার অনুভূতি নামক যন্ত্রটি কাজ না করলে ভালো। আর যদি করে তবে ইমিডিয়েটলি সেটা সার্ভিসিং এ দিয়ে অকেজো করে নিয়ে আসুন। কারণ, আপনার হার্ডওয়ারের সাথে এটির এসেম্বলি না হলেই বেটার।

 

 

বিঃদ্রঃ নারী নির্যাতনের পক্ষে বলা হয় নাই। পুরুষ নির্যাতনের কিঞ্চিৎ নমুনা দিলাম। স্টকে আরো আছে। কিন্তু শরমের লিগা বাইর করতে মনে চায় না।

কোটা বিভ্রাট

কোটা নিয়ে আফসোস আর গালাগালি নতুন নয়। যখন সরকার কোটাসিস্টেম চালু করেন তখন সংরক্ষিত আসনের ঐ শ্রেণীর লোক ব্যতীত অন্যরা এটার দিকে বাঁকাভাবে তাকায়। মানুষ হিসেবে আমরা এখনো অতটুকু উচ্চতায় যেতে পারিনি যেখানে অন্যের ভালো দেখে আমরা গর্ব বা আহ্লাদিত অনুভব করব। মুক্তিযোদ্ধারা যারা যুদ্ধ করেছেন বা তাদের সন্তানেরা- আমার জানামতে তারা কোটার জন্য আন্দোলন করেন নি বা প্রতিবাদসভা করেন নি তাদের প্রায়োরিটি দেবার জন্য। এটা স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলোর পক্ষ থেকে অনারারি বা সম্মানসূচকভাবে রক্ষিত কোটা। যা হোক, এটা কখোনই অযোগ্যকে প্রশ্রয় দেয়া নয়। শুধুমাত্র শর্টলিস্টেড হলে পরেই এর জন্য আপিল করা যায়। একেবারে অযোগ্যদের এটা দেয়া হয় না। এটা অবহেলিত সম্প্রদায়কে সহায়তাস্বরূপ বা অনারারিভাবে দেয়া হয়। বিসিএসের ব্যাপারটাও অনেকটা একই রকম।

ঢাকা ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার সময় আমার মনে আছে ওখানে কোটার অপশন ছিল। আমার ভাইয়া আমাকে বলেওছিলো- তুই যদি শর্টলিস্টেড ও হতে পারিস, তবে বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য আবেদন করবো। বলাবাহুল্য, ঢাকা ভার্সিটিতে শুধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা না, উপজাতি কোটাও বিদ্যমান। যাহোক আমরা কখনোই এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষপাতি ছিলাম না। আমার ভাই তার মেধায়ই যতদূর যাবার গিয়েছেন। আল্লাহ’র রহমতে আমারও কোটার প্রয়োজন পড়ে নি। কিন্তু শর্টলিস্টেড আমার এক বন্ধু যার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন- সে আপিল করে ভর্তি হয়। আমি শিওর যারা আজকে কোটার তীব্র প্রতিবাদ করছেন, কোন কোটার অপশন থাকলে তারাও নির্দ্বিধায় আপিল করে ভর্তি হতেন। শুধুমাত্র কোটা না, আপিল করেও যদি চান্স পাওয়া যায়- সেটা সবাই করবেন। ব্যাপারটা আয়রনিক! কোটার ক্ষেত্রে তাদেরকে দূষে কি লাভ? আপনাদের আপামর জনগণের যদি এতই সমস্যা কোটা নিয়ে, এত বঞ্চনা আর সইতে পারছেন না- তবে আমার আর্নেস্ট রিকোয়েস্ট আপনারা সরকারের কাছে আপিল করেন যেনো কোটা উঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু হিংসা বা বিদ্বেষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তানকে গালি দিয়েন না। উনারা কোটা কোটা বলে চিল্লান নাই বা এর জন্য কাঁদুনিও গান নাই।

এক্ষেত্রে আমি আমার এক সহপাঠী ছোট ভাইয়ের উক্তির সাথে প্রায় একমত। তার উক্তি মোটামুটি এরকমঃ

”শোনেন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা, আপনার বাবা যুদ্ধের সময়ে ঝাঁপাইয়া পরছে দেশের তাগিদে, আমাদের সবটুকু সম্মান, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আপনার বাবার প্রতি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনার বাবা যেন কখনই অসম্মানিত না হন, চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পান, খাবার কষ্টে যেন তাকে এবং তাঁর পরিবারকে ভুগতে না হয়, তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেন অর্থাভাবে স্কুল কলেজে পড়তে পারে না এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এসব বিষয়গুলো নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদেরও দায়িত্ব থাকে যেন আমাদের আশাপাশে কোন মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর পরিবারকে অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন না করতে হয় তা নিশ্চিত করা। সরকার এই সব বিষয় নিশ্চিত না কইরা বইয়া রইল কোটা লইয়া। আর রাজাকারদের বিচার নিয়া না হয় কিছু কইলামই না…

যে কোন বিষয়ে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার একমাত্র আপনার বাবার হওয়া উচিত, আপনার না । আপনি যেন ঠিকভাবে পড়াশুনা করতে পারেন তা যেন কখনো টাকার অভাবে থেমে না থাকে এ বিষয় নিশ্চিত করা সরকার তথা আমাদের অবশ্য কর্তব্য কিন্তু আপনি যোগ্য না হয়েও কোটার জোরে যোগ্য স্থানে আপনার টিকে যাওয়াটাকে আমি যৌক্তিক মনে করি না।

আপনার বাবা এই বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান আমি চিৎকার করে বলি কিন্তু আপনিও শ্রেষ্ঠ সন্তান কিনা তা বলতে পারি না। মেধার পরিচয়ে আপনি আপনার বাবাকে গর্বিত করে তুলুন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হওন, কোটার করুণায় কেন তা হবে?” কার্টেসিঃ রিয়াদ আরেফিন।

শেষ করার আগে বলতে চাই, সরকার জনগণের মতামত নিয়ে কোটা রাখুন বা উঠিয়ে দিন কোনটাতেই আমার আপত্তি নেই। তবে যাই ঘটুক, এটার জন্য মুক্তি্যোদ্ধা বা তার পরিবারকে গালি দেয়া আমার কাছে অসমিচীন মনে হয়। আর নিজের ক্ষেত্রে আমি একটা জিনিষ সবসময় ভেবে এসেছি বা ভাবি এখনো, সেটা হচ্ছে যতটুকু আমার যোগ্যতায় বা চেষ্টায় পৌঁছুতে পারব- যাব। আমার বাবা কি পাবেন বা পাবেন না ভেবে যুদ্ধ করেন নি। আর আমরা লোয়ার মিডলক্লাস আপামর জনগণ। আত্মসম্মানটুকু ছাড়া তেমন কোন বিত্ত-বৈভব আমাদের নেই। ওটুকুতে হাত দিয়েন না প্লিজ। কোটা রাখুন বা উঠিয়ে দিন- আপত্তি নাই।

অতএব, আমরা ভিক্ষা চাই না- কিন্তু আল্লাহ’র ওয়াস্তে কুত্তা সামলান।

অনাদৃত সঙ্গম

দীঘির জলে আলতো ছোঁয়া

নীলাভো আঁচে লালচে আগুনের মত,

ছুঁয়েছি তোমায় কোমল করে-

এলো তোমার হাসিতে একটু ভেজা

অধরসিক্ত টগরের রক্তিমাভার মত,

ছুঁয়েছ আমায় রঙ্গিন করে-

আলিঙ্গনের তীব্র আশে

একাকার হবার ঝড়ো উন্মত্ততায়,

উড়ে আসি অনাদৃত-

এইতো তুমি হাতের কাছেই

ছুটে যাই আবারিত উল্লাসী পাগল

আমি আবারো অবুঝ-

অস্পৃশ্য আঁচড় আমার পাঁজরে

তোমার চোখের মুক্তোগোছা বলে অব্যক্ততা,

মূর্ছা আমি অপাংক্তেয়-

দেয়ালের ওপারে তুমি একটু ছুঁয়ে যাও

ছুঁতে গিয়ে, মিলিয়ে যাবো বলে,

হয়ে যাই অবাঞ্ছিত-

অঙ্গুলীহেলনে গড়িয়ে দিলে

অবহেলিত গোলকের মত,

দূরত্বই অমোঘ নিয়তি।