রত্নগর্ভা

খাবি না বাবা? একটু খেয়ে নে

তোর কত কাজ করা লাগে, মায়ের জন্য কত কি করিস

দেশ-বিদেশ চষে বেড়াস আরো কত কি-

আগে গলাটা ভিজিয়ে নে

গরীবের ঘাম আর রক্তে যে স্বাদ- আর কোথাও পাবি না

তবে নতুন যে ফিল্টারটা লাগিয়েছি সেটায় ফিল্টার করে নিস-

কি মরা-পচা ছাই খায় ওরা

রক্ত দূষিতও হতে পারে;

আরেকটুকু নিয়ে খা- এতটুকু খেলে চলবে কেনো?

তাগড়া-মুশল রহিমের কলজেটা এনে দিই?

ওর শরীরটা বিল্ডিংয়ের পিলারে ছেঁচে গেলেও কলজেটা আঁচড়ছাড়া

দেখে এনেছি-

অথবা জরিনার নরম পায়ের রোস্টটা দিই?

হতভাগীর কচি শরীরটার আর কিছুই আনতে পারি নি-

একটু খা বাবা-

শরীরে বল না হলে হবে?

একি তুই মূষড়ে পড়লি যে-

চিন্তা করে না বাবা। মা থাকতে চিন্তা কি?

ওহো, বাইরের গন্ডগোলে বুঝি? পাগল ছেলে আমার-

ওরা দঙ্গল বেধে এসেছে, আবার চলে যাবে, ভুলেও যাবে শীগগির;

অযথা চিন্তা করে তোর প্রেশার বাড়াতে হবে না-

আর খাবি না বুঝি? থাক খেতে হবে না।

ঘুমুবি? এসিতে তোর আবার ঠান্ডা লেগে যায়-

দেব এক্সপোর্ট কোয়ালিটির কম্বলটা বের করে?

কত কষ্ট করে এগুলো বানাস তুই

আর ওই ছুঁচকেগুলো বলে ওদের মেহনতে নাকি এ সবকিছু?

কোন মানে হয়?

তুই ঘুমো। শান্তির ঘুম।

মায়ের মুখ উজ্জ্বল করছে সোনা আমার

মা আছি পাশে বসে। ছিলাম- আছি- থাকবো।।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s