Month: April 2013

রত্নগর্ভা

খাবি না বাবা? একটু খেয়ে নে

তোর কত কাজ করা লাগে, মায়ের জন্য কত কি করিস

দেশ-বিদেশ চষে বেড়াস আরো কত কি-

আগে গলাটা ভিজিয়ে নে

গরীবের ঘাম আর রক্তে যে স্বাদ- আর কোথাও পাবি না

তবে নতুন যে ফিল্টারটা লাগিয়েছি সেটায় ফিল্টার করে নিস-

কি মরা-পচা ছাই খায় ওরা

রক্ত দূষিতও হতে পারে;

আরেকটুকু নিয়ে খা- এতটুকু খেলে চলবে কেনো?

তাগড়া-মুশল রহিমের কলজেটা এনে দিই?

ওর শরীরটা বিল্ডিংয়ের পিলারে ছেঁচে গেলেও কলজেটা আঁচড়ছাড়া

দেখে এনেছি-

অথবা জরিনার নরম পায়ের রোস্টটা দিই?

হতভাগীর কচি শরীরটার আর কিছুই আনতে পারি নি-

একটু খা বাবা-

শরীরে বল না হলে হবে?

একি তুই মূষড়ে পড়লি যে-

চিন্তা করে না বাবা। মা থাকতে চিন্তা কি?

ওহো, বাইরের গন্ডগোলে বুঝি? পাগল ছেলে আমার-

ওরা দঙ্গল বেধে এসেছে, আবার চলে যাবে, ভুলেও যাবে শীগগির;

অযথা চিন্তা করে তোর প্রেশার বাড়াতে হবে না-

আর খাবি না বুঝি? থাক খেতে হবে না।

ঘুমুবি? এসিতে তোর আবার ঠান্ডা লেগে যায়-

দেব এক্সপোর্ট কোয়ালিটির কম্বলটা বের করে?

কত কষ্ট করে এগুলো বানাস তুই

আর ওই ছুঁচকেগুলো বলে ওদের মেহনতে নাকি এ সবকিছু?

কোন মানে হয়?

তুই ঘুমো। শান্তির ঘুম।

মায়ের মুখ উজ্জ্বল করছে সোনা আমার

মা আছি পাশে বসে। ছিলাম- আছি- থাকবো।।

 

প্রশ্নবিদ্ধ

আমি তোমাদের মত উদার নই। তোমাদের মত সাহসী নই।  ভালোবাসার পাঠটা তোমাদের মত তাই আমি বুঝি না। আমি হিংসুটে প্রেমিক। আমি বড় স্বার্থপর। সমস্তকিছু মেনে নেয়া বা গ্রহন করার ক্ষমতা আমার মাঝে নেই। আমি আমার দৃষ্টিতে যা কিছু ভুল দেখি তা-ই অঙ্গুলিহেলনে দৃষ্টিগ্রাহ্য করার অপচেষ্টা আমার আছে। আমার নিজের ক্ষেত্রে হোক বা অপরের ক্ষেত্রে, আমি সর্বদাই এরকম। আমি প্রশ্ন তুলি। আমি লড়ি। যা চাই, আত্মকরণে পুরোপুরি চাই। আমার ভালোবাসায় আমি ছাড় দিতে প্রস্তুত নই। ভুল স্বীকার করতে যেমন আপত্তি নেই, তেমনি আপত্তি নেই অন্যের ভুল মেনে নিতে। আমি জানি আমি পারি না। আমার মত পারো না তুমিও। কিন্তু  চেষ্টা করাটা অন্তত উচিত বলে মনে হয় আমার। আমি আমার মাঝে দেয়াল রাখায় বিশ্বাসী নই। এটা অবশ্যই জরুরী নয় যে আমি-ই ঠিক। কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারি না যে একটা মানুষ যার সঙ্গে আমি সুখে-দুঃখে সবসময় আছি, আমার জীবনে সবচে’ গুরুত্বপূর্ণভাবে যে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে- তার কাছে আমি আমার স্বপ্ন, বিশ্বাস, আদর্শের মত  জিনিষগুলো কি করে লুকোব? কি করে এগুলো একটা দেয়ালে আবদ্ধ রেখে তাকে আমার পুরোটা দেব? অবশ্যি আমার এ চাওয়াটা হয়তোবা যুক্তিসঙ্গত নয়। কেননা, কিছু মানুষ হয়তো লুকিয়ে রাখতেই জন্মায়। কেউ সইতে, কেউবা সওয়ানোতে বিশ্বাসী। আমার ভালোবাসার মানুষটার অন্যরকম। আমি যখন যা দিই, তা নিয়েই সে সুখি। সে প্রশ্ন তোলে না। চায় না। হিংসা করে না। দেয়াল থাকলেও তার কিছু এসে যায় না। কিন্তু আমার যে আমার ভালোবাসার পুরো পাঠটা পড়া চাই। আমি চাই তার স্বপ্নগুলো নিয়ে এলো করতে, বিশ্বাসকে অনুধাবন করতে- আমার পাঠটাও তাকে দিতে চাই। সে চায় না। বলে, তোমারটা তোমারই থাকুক- আমারটা আমার। আমি যে আমি-তুমি রাখতে চাই না। পুরোটা একাকার করে আমরা হয়ে যেতে চাই। যেখানে আমাতে আর তোমাতে কোন সীমারেখা থাকবে না। হয়তো আমার চাওয়াটা একটু বেশিই। তাই এখনো জোটেনি। যা চাই, তার সব যে পাবই তার তো কোন গ্যারান্টি নেই। তবে ততদিন আপনাতেই আপনি মিশে থাকবো। যেখানে দেয়াল নেই, জানালা নেই- কিচ্ছু নেই। সব স্পষ্ট দিনের আলোর মত। শিক্ষাটা সে না নিলেও আমি তার কাছ থেকে ঠিকই নিয়েছি।শুধু একটা প্রশ্ন থাকে, অনেকটা এ কবিতার মত-

They say there is a window from one heart to another

How can there be a window where no wall remains?

স্বগতোক্তি ২

আমি বড় ক্লান্ত।

আমি আস্তিকতা- নাস্তিকতার ধোঁয়া দেখে ক্লান্ত। আমি জামায়াতের ইসলামপ্রীতি(!!) দেখে ক্লান্ত।
আমি ক্লান্ত বিরোধীদলের কেয়ারফ্রি হরতাল ডাকা দেখে; আর ‘একাজে কিছু জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি হবেই’ টাইপের অনুভূতিশুণ্য স্বার্থপরতা দেখে। আমি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চাল দেখে ক্লান্ত। রাজাকারের ফাঁসি নিয়ে নাটক দেখে আমি ক্লান্ত।

আমি ক্লান্ত মুক্তচিন্তার নামে ধর্মের অবমাননায় আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাহীনতায়। আমি ক্লান্ত কিছু বিবেকহীন কার্টুনিস্ট বা ব্লগারের আমাদের নবীকে নিয়ে নোংরামি করার স্পর্ধিত কর্মকান্ডে। ইসলামের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মানুষ যখন উল্টা-পাল্টা গালি-গালাজ করে এবং অন্যেরা তার সাপোর্ট গায় সেটা দেখেও আমি ক্লান্ত।

আমি ক্লান্ত মিডিয়ার একপাক্ষিক বাক-স্বাধীনতা চাওয়ার পরিহাস দেখে।

আমি ক্লান্ত যখন আমার লেখা কারো পক্ষেরই নয় বলে ডিলিট করে দেয়া হয়।

পৃথিবীজোড়া বৈষম্য দেখে আমি আজ পরিশ্রান্ত। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মুখ বুজে থাকায় আর তাদের দূর্বল বলে সবার উপেক্ষায় আমি ক্লান্ত। সাধারণ পুলিশের মৃত্যুতে আমি ক্লান্ত। আমি ক্লান্ত সাধারণ মুসলমানদের ভোগান্তিতে। রাজনীতির বা ধর্মের দোহাই দিয়ে হিন্দুনিধনে আমি ক্লান্ত।

সাম্প্রদায়িকতা লেলিয়ে দেয়া দেখে আমি ক্লান্ত।

অর্থ আর ক্ষমতার লোভ কতটা হলে সাধারণ মানুষের জীবন-ধর্ম সমস্ত কিছু বিক্রি করে দেয়া যায়? কতক্ষন নিজস্বার্থ প্রাপ্তির আশায় আমরা সকল অন্যায় অন্ধের মত মেনে যাব? এখনো কি সময় আসেনি বোঝার? রাত পোহাতে আর কত বাকী?