স্বগোতক্তি

দেশে এইসব কি হইতেছে? এতদিন দেখলাম দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া প্রহসন। এখন দেখি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে প্রহসন। আমরা কি ফুটবল যে সবাই আমাগো লইয়া খেলবো?

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দল। উনারা যুদ্ধাপরাধীদের ইস্যুতে সাপোর্টিভ থাকবেন এইটা স্বাভাবিক। ছিলেন কি? মৌন সমর্থন ছাড়া তারা এ ইস্যুর স্বপক্ষে প্রকৃতপ্রস্তাবে কিস্যু করেন নাই। কারণ, তাতে বর্তমান আওয়ামী লীগের কতিপয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ধরা খাইতে পারে। এ কারণে উনারা জনগণের কাছ থেইকা প্রতিবাদ আশা কইরা বইসা ছিলেন। জামাত-শিবিরের চিহ্নিত রাজাকারদের বিচারের দাবী যখন চলে তখন আওয়ামী লীগ চুপ কইরা মজা নেয়। কিন্তু কিছুই করে না। আর যদি সব রাজাকারের দাবী চাওয়া হয় তাইলে আওয়ামী নেতারা বঙ্গবীরের উপাধি ফেরত নিবেন বইলা হুমকি দেন। উনি নাকি রাজাকারের দোষর!! 

আর এখন শিবির যেইটা শুরু করছে সেইটা তো আরেক প্রহসন। নাস্তিকদের বিচার চাই। কোন জায়গায় আছে যে বিধর্মী বা নাস্তিক ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হবে? মহানবী (সাঃ) এর জীবন দেখেন। উনি (সাঃ) যখন তৌহিদ বা একত্ববাদের প্রচার করেন, তখন লোকেরা তাকে দিকভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট বলত। অত্যাচার করছে, মারছে। কিন্তু তিনি কখনো তাদের সাথে খারাপ করেন নাই। ভালো ব্যবহার ই কইরা গেছেন। খারাপ করা দূরে থাক, তিনি কখনো তাদের খারাপ চান ও নাই। বদ দু’আ করেন নাই। আল্লাহ’র নবী (সাঃ), তাঁর সম্মান আল্লাহর কাছে। সেই সম্মান নষ্ট হয় নাই, হইবও না। আর তৌহিদি জনগণ-আমরা পতাকা পুড়ায়া ফেলবো,চত্বর ভাইঙ্গা ফেলব। এইসব কি? দেশের পতাকা পুইড়া ফেলা কোন ধর্মে আছে?
নাস্তিকতা আমারো পছন্দ না। কিন্তু এইটা যার যার বিশ্বাস। কি করার আছে? আপনি আমি বলতে পারি, কিন্তু পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ। উনি না চাইলে কিছু করার নাই। যে শুদ্ধমনে হেদায়েত চাইবে, আল্লাহ দিবেন। না হলে আমাদের কি করার আছে? মাইরা ফেলবো ধইরা ধইরা? 
”আল্লাহপাক সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না”
আমরা সীমা অতিক্রম করলে আমরাও ওই দলে পইড়া যামু। আমি নাস্তিক ব্লগারের লেখার তীব্র প্রতিবাদ আগে ও করছি, এখনো করি। কিন্তু এর মানে এই না যে অগো ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হইবো। মহানবী (সাঃ) রে সম্মান করেন, উনার জীবন আকড়াইয়া ধরেন। ভালো মানুষ হই আসেন আমরা সবাই। কেউ অন্যায় করছে দেইখা তাগো দেখাদেখি আমরাও অন্যায় করবো এই লাইসেন্স আমাগো ইসলাম দেয় নাই। মহত্ব শিখি আসেন। ক্ষমা করতে শিখি। পস্তাইবেন না। 
”আল্লাহ ধৈর্য্যধারণকারীদের পছন্দ করেন”
জামাত-শিবিরদের আমাদের ধর্মানুভুতি নিয়া খেলতে দিয়েন না। প্লিজ। ওরা যা করতাসে তাও ক্ষমতার লিগাই করতাছে। আপনাগো আল্লাহর দোহাই লাগে। চোখ খুলেন। 

বাঙ্গালী হুজুগে ছিল। এখনো আছে। যে যেদিকে ডাক দেয়, সেদিকেই যাই। এখনো সময় আছে। অন্ধের মত না থাইকা- আসেন পড়ি। জানি- বুঝি। উগ্রতায় কোন সমাধান নাই। নিজের বিবেক খাটাই আসেন। আল্লাহ আমাদের হেদায়েত আর সঠিক বুঝ দেন। আমীন।।

Advertisements
This entry was posted in Articles. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s