Month: February 2013

স্বগোতক্তি

দেশে এইসব কি হইতেছে? এতদিন দেখলাম দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়া প্রহসন। এখন দেখি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে প্রহসন। আমরা কি ফুটবল যে সবাই আমাগো লইয়া খেলবো?

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দল। উনারা যুদ্ধাপরাধীদের ইস্যুতে সাপোর্টিভ থাকবেন এইটা স্বাভাবিক। ছিলেন কি? মৌন সমর্থন ছাড়া তারা এ ইস্যুর স্বপক্ষে প্রকৃতপ্রস্তাবে কিস্যু করেন নাই। কারণ, তাতে বর্তমান আওয়ামী লীগের কতিপয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ধরা খাইতে পারে। এ কারণে উনারা জনগণের কাছ থেইকা প্রতিবাদ আশা কইরা বইসা ছিলেন। জামাত-শিবিরের চিহ্নিত রাজাকারদের বিচারের দাবী যখন চলে তখন আওয়ামী লীগ চুপ কইরা মজা নেয়। কিন্তু কিছুই করে না। আর যদি সব রাজাকারের দাবী চাওয়া হয় তাইলে আওয়ামী নেতারা বঙ্গবীরের উপাধি ফেরত নিবেন বইলা হুমকি দেন। উনি নাকি রাজাকারের দোষর!! 

আর এখন শিবির যেইটা শুরু করছে সেইটা তো আরেক প্রহসন। নাস্তিকদের বিচার চাই। কোন জায়গায় আছে যে বিধর্মী বা নাস্তিক ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হবে? মহানবী (সাঃ) এর জীবন দেখেন। উনি (সাঃ) যখন তৌহিদ বা একত্ববাদের প্রচার করেন, তখন লোকেরা তাকে দিকভ্রান্ত বা পথভ্রষ্ট বলত। অত্যাচার করছে, মারছে। কিন্তু তিনি কখনো তাদের সাথে খারাপ করেন নাই। ভালো ব্যবহার ই কইরা গেছেন। খারাপ করা দূরে থাক, তিনি কখনো তাদের খারাপ চান ও নাই। বদ দু’আ করেন নাই। আল্লাহ’র নবী (সাঃ), তাঁর সম্মান আল্লাহর কাছে। সেই সম্মান নষ্ট হয় নাই, হইবও না। আর তৌহিদি জনগণ-আমরা পতাকা পুড়ায়া ফেলবো,চত্বর ভাইঙ্গা ফেলব। এইসব কি? দেশের পতাকা পুইড়া ফেলা কোন ধর্মে আছে?
নাস্তিকতা আমারো পছন্দ না। কিন্তু এইটা যার যার বিশ্বাস। কি করার আছে? আপনি আমি বলতে পারি, কিন্তু পথ দেখানোর মালিক আল্লাহ। উনি না চাইলে কিছু করার নাই। যে শুদ্ধমনে হেদায়েত চাইবে, আল্লাহ দিবেন। না হলে আমাদের কি করার আছে? মাইরা ফেলবো ধইরা ধইরা? 
”আল্লাহপাক সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না”
আমরা সীমা অতিক্রম করলে আমরাও ওই দলে পইড়া যামু। আমি নাস্তিক ব্লগারের লেখার তীব্র প্রতিবাদ আগে ও করছি, এখনো করি। কিন্তু এর মানে এই না যে অগো ধইরা ধইরা মাইরা ফালাইতে হইবো। মহানবী (সাঃ) রে সম্মান করেন, উনার জীবন আকড়াইয়া ধরেন। ভালো মানুষ হই আসেন আমরা সবাই। কেউ অন্যায় করছে দেইখা তাগো দেখাদেখি আমরাও অন্যায় করবো এই লাইসেন্স আমাগো ইসলাম দেয় নাই। মহত্ব শিখি আসেন। ক্ষমা করতে শিখি। পস্তাইবেন না। 
”আল্লাহ ধৈর্য্যধারণকারীদের পছন্দ করেন”
জামাত-শিবিরদের আমাদের ধর্মানুভুতি নিয়া খেলতে দিয়েন না। প্লিজ। ওরা যা করতাসে তাও ক্ষমতার লিগাই করতাছে। আপনাগো আল্লাহর দোহাই লাগে। চোখ খুলেন। 

বাঙ্গালী হুজুগে ছিল। এখনো আছে। যে যেদিকে ডাক দেয়, সেদিকেই যাই। এখনো সময় আছে। অন্ধের মত না থাইকা- আসেন পড়ি। জানি- বুঝি। উগ্রতায় কোন সমাধান নাই। নিজের বিবেক খাটাই আসেন। আল্লাহ আমাদের হেদায়েত আর সঠিক বুঝ দেন। আমীন।।

খোলা চিঠি

বুবু,
জানি যতটা কষ্ট ওই আকাশের চূড়ায়
ঠিক ততটায় তোকেও কাঁদায়,
স্বপ্নচূড়ের একমুঠো গ্লানি আসে ফিরে
বারবার তোর মন সমুদ্রের তীরে,
কালো নিকষ একটা পর্দা টানা
তার নিষ্করণ এখনো হলো না-

তবু জানি একদিন,
কষ্ট ছেড়ে দূরদেশেতে
সুখ সাগরের জোয়ারেতে,
আমরা সবাই একসাথে
দিন-রাতি ভাসবো তাতে,
স্বপ্ন সকল হাতের মুঠোয়-
তুই দেখে নিস বুবু
তুই দেখে নিস।

-তোর অবুঝ ছেলে

ভালোবাসা তোর জন্য

কিছু কষ্ট থেকে যায়। সব মুছে গেলেও। সময়ের অতলে এরা চাপা পড়ে না কখনোই। অধরা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, ক্ষয়ে ফেলা আত্মপরিচয়, ধর্ষিতার গ্লানি, আরো কত কি। কিন্তু অপূর্ণ ভালোবাসার কষ্ট এমন যা পোড়ায় ৬০ বছর পর ও। পার্থিব কষ্টের মাঝে এটাই সবচে’ কষ্টকর মনে হয় আমার। আমার মা’কে আমি দেখেছি আমরা বড় হওয়ার পরও তার প্রথম দু’ মৃত সন্তানের জন্য চুপি চুপি কাঁদেন। আমেনাবু আর ফাতেমাবু। কিন্তু আমার বোন আজ যে কষ্ট পেয়েছেন, তার বোঝা মা’র থেকেও বেশি হবে এক দিক থেকে। আমেনাবু-ফাতেমাবু এই দুনিয়ার আলো-বাতাস দেখে গেছেন। আমাদের বাবুটা সেটাও দেখলো না। আমি জানি না আমাদের বাবুটা কি হত… আমার বাবা হত, না মা হত আরেকটা… আমি জানি না। আমার মতই আমার বুবু কাঁদছেন আমি জানি। আমার কান্না হয়তো থামবে, তারটা কখনোই থামবে না। আরো চল্লিশ বছর পর আমার বুবু বুক হাতরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলবেন। আমি আল্লাহ’র কাছে প্রার্থণা করি আমার বুবুকে উনি ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দিন। আর আমাদের বাবুটা ভালো থাকুক। বুবু, বিশ্বাস কর আল্লাহ ওকে ভালো রাখবেন। আর আমাদের ভালোবাসার পূর্ণতা হয়তো হিসেবে বাবুটা আসেনি হয়তো… কিন্তু আমাদের ভালোবাসা তোর জন্য পূর্ণই আছে বাবু…

না দেখা ভালোবাসা, না করা আদর- আমায় আমার মালিক ফিরিয়ে দেবেন কোনদিন। সেই আশায় থাকলাম।

প্রেম

 

রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটে

এক অদ্ভুত অস্থিরতায় বুক কাঁপে সারাক্ষণ

প্রতি মুহুর্তে কারও মৌনস্তুতি

আর অপেক্ষায় নয়ন ঊর্ধমুখি…

কেউ একটু ছুঁয়ে দিলে যেন ভুবন হাতের মুঠোয়

যার চ্ছটায় অপ্সরীরা ম্লান

একটু বিষন্নতায় নামে আঁধারপ্লাবন

যার উচ্ছলতায় বাঁধ ভাঙ্গে জোছনা-

জীবন যেন শুধুই তাকে ঘিরে

তাকে পাবার আশ প্রতি মূহুর্তে

যদি প্রাণও হারে তার জন্যে- নিতান্তই বাঞ্চিত

প্রিয়ার জন্য কিবা বেশি বল?

 

একে তোমরা ভালোবাসা বল, মিলনে যার পূর্ণাঙ্গতা পাও –

কামনা বলি আমি। দেখবে প্রেম কাকে বলে?

দেখো ওই কুঁজো বুড়ো মা তাঁর পঙ্গু ছেলের জন্য বাড়ায় ভিক্ষার ঝুলি,

ল্যাম্পপোস্টের কোণায় যে নিশিকন্যা রাতের সওদা করে-

ঘরে তার ছোট ছোট ভাই-বোন আর অচল বাবা,

দেখো ঐ মজদুরের শীর্ণ শরীরে জ্বরের আঁচ-

তবু বয়ে যায় আমাদের ভার; মেয়ের যে বিয়ে হচ্ছে না যৌতুকের জন্য!

বাড়ীতে বাড়ীতে ফরমায়েশ খেটে যে স্ত্রী চালায় সংসার-

সারাজীবন হারভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে বাবার মত আগলে পরিবার

যে ভাই তার প্রিয়াকে করলো পর;

দেখো আমাদের মুক্তজীবনের স্বপ্নে জীবন দিল

লাখো মুক্তিযোদ্ধা, যাদের সন্তান আজ দুয়ারে দুয়ারে ঘোরে;

যেখানে চাওয়া নেই, প্রত্যাশা নেই, কামনা নেই

শুধুই ভালোবাসা… নিখাদ আর অটুট।

দেখতে পাও না তুমি?

আমি এই স্বার্থপর সমাজেরই কীট

নিজের লাভে সত্যকে মিথ্যা আর দিনকে রাতে বদলে দিই

এ যে আমার পেশা… অস্তিত্বের অবলম্বন।

তোমরা তো শিক্ষিত বিবেকবান সুস্থ মানবসম্প্রদায়

বোঝ না এ মিথ্যে প্রয়াস?

 

 

 

 

 

প্রতি উত্তরে নারী উপাখ্যান

 

 

সেই আদি থেকে আজি সহস্রাব্দ ধরে

কত শতজন কত সহস্রভাবে

বুনে গিয়েছে তার উপাখ্যান

তবু যেন সব অসম্পূর্ণ…

দেবি থেকে পথের কুকুর- আরো কত রূপ

চিনেছে কি কেউ তবু?

যার মনের গহীনে পৌঁছানোর জন্য ডুবুরীর এতো প্রাণান্ত চেষ্টা

সে নিজেই কি জানে কোথা তার তল?

মন্দিরের পূজারী আর পথের মূচি যাকে জীবনজোড়া জুড়তে চেয়েছে

সে নিজেই কি জানে সে কি চায়?

এ যে সীমাহীন সীমাধারী এক অদ্ভুত আধার

স্রষ্টার এক বিস্ময়!

এর তলে পৌঁছুবার নেশায় যে ভরাডুবি আসন্ন…

 

সুতরাং হে নাবিক,

তুমি বরং খেলে যাও… খেলাহীন খেলা

তাতেই যদি কভু কুলের দেখা পাও।

 

বিদায়ী পথিক

 

 

 

পথিক আমি- গন্তব্যহীন গন্তব্যে হেটে যাই

আর এই অবেলায় কিছু শ্বাশত বলে যাই,

এই চাঁদের আঙিনায়, আমি হেটেছি প্রান্তরে প্রান্তর

কতরূপ দেখেছি- আপন দেখেছি দেখেছি পর,

দেখেছি গোধুলী, মধ্য আকাশে পিচগলানো ঝাঁঝ

চাদর ফেলে ওঠা অলস সকাল আর বাঁদুরে সাঁঝ,

আমি চলেছি, বসেছি, হেসেছি- কেঁদেছি

কবিতা বুনেছি, গলা ছেড়ে কখনো গেয়েছি,

নেয়েছি নোনা আর মিঠা জলে

শুনেছি সমাজ আর লোকে কি বলে,

শত-সহস্র বছরের পুঞ্জীভূত কষ্ট আর আক্রোশ পড়েছি

যত ধোঁকা আর নষ্টের ইতিহাস ও পড়েছি,

গিয়েছি লোকালয়ের নির্জনতা আর মৌনতার মেলায়

ওদের গল্পগুলো বেধেছি সাদাকালো আর রঙ্গিনের ফিতায়,

আজ কানে বলি শোন-

শত শত পথিক দেখো গাথা মহাকালের সুতায়

ওরা মৌন চিৎকার করে ওঠে হাজার গলায়,

 

আহাঃ সবাই যে অর্থহীন আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে আছে!

কালের পরতে পরতে শোন তিমিরের হাহাকার জড়িয়ে আছে,

ওদের ঝেড়ে ফেলা ধুলোতে দেখো ক্লান্তির ছাপ

বুকজোড়া দেখ দগ্ধদাহ আর কতনা প্রত্যাশার চাপ,

দমকা হাওয়ায় প্রদীপ আচমকা নিভল যখন

কুহকী স্বপ্নের ভোর কাটলো তখন,

সায়াহ্ন নিকটে আজ বলি- মায়া না হেরিও

এর পিছনে যে চিরসুপ্ত কায়া, তাঁকে খুঁজিও।।

 

 

 

 

পথিক

 

হে পথিক, যাচ্ছ কোথায়- একটু দাঁড়াও

বসো একটু এই ছায়াতলে, বিশ্রাম নাও খানিকটা

জুড়াও হৃদয়খানি শীতল শাসে আর জলের ছোঁয়ায়

দেখো ঐ আকাশে মেলছে ডানা নীল মেঘমালা

ভরো শ্বাস এই মুক্ত নির্মল বাতাসে-

খাবে কিছু? এনে দেবো সদ্যফোটা কবুতরখানির ভুনা-

নাকি ঘুমোবে- দেবো বিছিয়ে কচি শিমুলের বালিশখানি?

কি হলো?

 

যার বিরহে এ প্রাণের উচাটন- পারবে এনে দিতে?

কত রাত কত শ্বাস ধরে ছটফট করছি

মনের কোণে যে বহ্নির ফোয়ারা তাঁর বিহনে

পারবে বুজাতে তাকে? যদি না পারো তবে ছেড়ে দাও আমায়…

তাঁকে ঘিরেই যে সব আমার- মৌনতাই সরব তাঁর সাথে

পথচলাই যে বিশ্রাম, অনাহারই যে খাবার

তৃষনাই যে আমার পান করা… তাঁকে পেলেই যে নাববে

আঁধার এ লন্ঠনখানিজুড়ে।